মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মার চরাঞ্চলে মানসিক ও বাক-প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রাম্য শালিস বৈঠকে টাকা দিয়ে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের হাতিঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মামলার আসামিরা হলেন- ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার মোল্লাডাঙ্গি এলাকার সাগর ফকির (২৭), হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের হাতিঘাটা এলাকার মো. বাবু (৪০), একই গ্রামের শাহা খাঁ (৪৫) ও মিঠু (৩২)।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগীর বাবা অভিযোগ করেছেন, তার মেয়ে বুদ্ধি ও বাক-প্রতিবন্ধী। মেয়েটি বিবাহিত হলেও স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি পিতার বাড়িতে থাকেন। বিভিন্ন সময় আসামি সাগর ফকির ভুক্তভোগীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৩ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির সামনে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটার সময় সাগর তাকে মুখ চেপে পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে বাবু, শাহা খাঁ ও মিঠু ভুক্তভোগীসহ সাগরকে আটক করে মিঠুর বাড়িতে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর বাবা বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে গেলে তার মেয়ে তাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। সেখানে বাবু, শাহা খাঁ ও মিঠু অভিযুক্ত সাগরের বিচার করে দেবে বলে সময় নিলেও সাগরের কাছে থেকে টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
পরবর্তীতে গত ২৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাবু, শাহা খাঁ ও মিঠু ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বলেন, তারা বিষয়টি আমরা মীমাংসা করে দিয়েছেন। ভুক্তভোগীর বাবা টাকা না নিতে চাইলে এবং বিচার মানতে না চাইলে তারা তিনজন মিলে তাকে মারধর করেন। পরে তিনি থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ভুক্তভোগীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।