Tuesday 28 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

হিলি স্থলবন্দরে দিয়ে পাথর আমদানি শুরু

লোকাল করেসপনডেন্ট
২৮ জুলাই ২০২৬ ২৩:৩৮

হিলি: দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও ভারত থেকে পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। গত ২৭ ও ২৮ জুলাই দুই দিনে ভারতীয় ২৭টি ট্রাকে মোট ১ হাজার মেট্রিক টন পাথর দেশে প্রবেশ করেছে। এতে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) ভারত থেকে ২১টি পাথরবোঝাই ট্রাকে ৮৩৯ দশমিক ৯৮০ মেট্রিক টন পাথর হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। একই দিন আরও ৬টি পাথরবোঝাই ট্রাক ভারতের অংশে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ৬টি ট্রাকে আরও ২৪০ মেট্রিক টন পাথর দেশে আসে। ফলে দুই দিনে মোট ২৭টি ট্রাকে ১ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞাপন

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ম্যাক্স ইনফ্রা ভারতের বিহারের পাকুর এলাকা থেকে এসব পাথর আমদানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা জানান, আমদানিকৃত পাথর ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।

হিলি স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টের টালি খাতার হিসাব অনুযায়ী, ২৭ জুলাই পাথরসহ ১২টি পণ্যের ৪৮টি ভারতীয় ট্রাকে মোট ১ হাজার ৫৫৪ দশমিক ২১ মেট্রিক টন পণ্য দেশে প্রবেশ করে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ২টি ট্রাকে ৭ হাজার ৬৬৫ কেজি পণ্য ভারতে রফতানি হয়। ২৮ জুলাই পাথরসহ ১০টি পণ্যের ২৭টি ট্রাকে ৮৯৪ দশমিক ১১৭ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি এবং ১৩টি ট্রাকে ৮১ হাজার ৩৯১ কেজি পণ্য রফতানি হয়েছে।

বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন মণ্ডল বলেন, এক সময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত হিলি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সাম্প্রতিক সময়ে অনেকটাই কমে গেছে। দীর্ঘদিন পর আবার পাথর আমদানি শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দরকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন।

বন্দরের শ্রমিক সরদার রাহুল বলেন, আমদানি-রফতানি কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাথর আমদানি পুনরায় শুরু হওয়ায় বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

শ্রমিক তোজাম্মেল হোসেন জানান, একসময় হিলি বন্দরে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ শ্রমিক কাজ করলেও বর্তমানে কাজের অভাবে অনেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন। এখন বন্দরে নিয়মিত ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন।

উল্লেখ্য, পার্কিং চার্জ বৃদ্ধি, ওভারলোডিং বন্ধসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে ২০২২ সালে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর