Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আগুনে পুড়িয়ে সোনাদিয়ার প্যারাবন ধ্বংস, বিপর্যয়ে পরিবেশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪২

সোনাদিয়ার প্যারাবন।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন কেটে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্যারাবন উজাড় করে একাধিক মৎস্যঘের তৈরি করা হয়েছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাদিয়া দ্বীপটি প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের। দ্বীপটিতে ১ হাজার ৯০০ জন মানুষের বসবাস, ভোটার ৯৭৪ জন এবং বসতি রয়েছে ৩১৬টি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনাদিয়া দ্বীপে থাকা ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পরে কাটা গাছ সরিয়ে আগাছার স্তূপে আগুন দিয়ে শেকড় পর্যন্ত পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এসব এলাকায় পরে মৎস্যঘের তৈরি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগমুহূর্ত থেকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময় পর্যন্ত নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ বন উজাড় করে ৫০টির বেশি ঘের নির্মাণ করা হয়েছে। এতে শুধু জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়নি, উপকূলীয় এলাকার পরিবেশও ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে এসব প্যারাবন কেটে ঘের নির্মাণ করা হচ্ছে। ইউসুফ, ছিরুসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বনবিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও অবৈধ দখল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত ১ এপ্রিল সোনাদিয়ায় অভিযান চালিয়ে একটি ফেরি জব্দ করা হয় এবং ৩০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দেওয়া হয়। এর আগে পরিবেশ অধিদফতরও দু’টি পৃথক মামলা করেছে। তবে এসব মামলায় প্রকৃত দখলদারেরা বাদ পড়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, সম্প্রতি অভিযান শেষে আট সদস্যের একটি বিশেষ টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এরপরও অবৈধ দখল কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সোনাদিয়া থেকে ঘটিভাঙ্গা যাওয়ার একমাত্র সড়কে পানি আটকে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

বনবিভাগের গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা আইয়ুব আলী বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে থানা প্রশাসন এখনো কাউকে আটক করেনি।’

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান বলেন, ‘অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, ‘একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বিষয়াদি খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর