সিলেট: সিলেটে বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে ধূমপান ও আড্ডার মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পুলিশ, প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জালালাবাদ থানায় নিয়ে যায় এবং এ ঘটনায় জিডি করা হয়েছে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রভাষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তার সঙ্গে থাকা আরও দুই বন্ধু উত্তরপত্র দেখছিলেন। এ সময় সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে আরও জানা যায়, এর আগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে সিগারেট ও চা পানের ফাঁকে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন।
উত্তরপত্র জব্দের সময় কৈফিয়ত চাইলে প্রভাষক ইকবাল বলেন, তাড়াহুড়ো থাকায় বন্ধুদের নিয়ে খাতা না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।
এ সময় উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনও খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার ব্যাচমেট ও বন্ধু, তাই শুধু সঙ্গে ছিলাম।’
এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, ‘ইকবাল হোসেন আমাদের পরীক্ষক। পরীক্ষার উত্তরপত্রগুলো বাসায় বসে দেখার কথা ছিল। কিন্তু তিনি পাবলিক প্লেসে বন্ধুদের নিয়ে বসে খাতা দেখছিলেন। খবর পেয়ে আমরা রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত প্রভাষককে বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তদন্তের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চলছে।