Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নেই সরকারি অনুমতি / যমুনা সেতুর কেপিআই এলাকায় লোড-আনলোডের অবৈধ ব্যবসা

আশরাফুল ইসলাম জয়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ আগস্ট ২০২৬ ০০:৫১

যমুনা সেতুর কেপিআই এলাকায় এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে লোড-আনলোডের অবৈধ ব্যবসা। ছবি: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জ: যমুনা সেতুর কেপিআই এলাকার ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও মহাসড়কসংলগ্ন একাধিক স্থানে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পাথর, বালু ও অন্যান্য পণ্য লোড-আনলোডের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কার্যক্রম চলছে। এতে একদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ধুলাবালি, যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মুলিবাড়ি চেকপোস্টসংলগ্ন হাইওয়ে ওভারব্রিজের পাশে দুই থেকে তিনটি লোড-আনলোড পয়েন্ট রয়েছে। এ ছাড়া কড্ডার মোড় ও ঝাউল ওভারব্রিজ এলাকাতেও একইভাবে ট্রাক থেকে পাথর, বালু ও বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থানে এ ধরনের কাজের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই।

মুলিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাই সারাবাংলাকে বলেন, ‘দিন-রাত ট্রাক আসে। রাস্তার একাংশ দখল করে মালামাল ওঠানো-নামানো হয়। ধুলাবালিতে দোকান ও বাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয় দেখানো হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

একই এলাকার স্কুলশিক্ষার্থী মাহিন হাসান সারাবাংলাকে বলে, ‘বৃষ্টি হলে আমরা ওভারব্রিজের নিচে দাঁড়াতে পারি না। বড় বড় ট্রাক থাকে। খুব ভয় লাগে। রাস্তা পার হতেও কষ্ট হয়।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে ভারী ট্রাকের কারণে সড়কে কাদা জমে যায় এবং যানজট সৃষ্টি হয়। পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, সিএনজি ও অটোরিকশার যাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে গিয়েও দুর্ভোগে পড়েন। নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

যমুনা সেতুর কেপিআই এলাকায় এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে লোড-আনলোডের অবৈধ ব্যবসা। ছবি: সারাবাংলা

যমুনা সেতুর কেপিআই এলাকায় এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে লোড-আনলোডের অবৈধ ব্যবসা। ছবি: সারাবাংলা

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মুলিবাড়ি চেকপোস্ট এলাকার কয়েকটি লোড-আনলোড পয়েন্ট সালাম সরদার, কড্ডার মোড় এলাকায় মুক্তার হোসেন এবং ঝাউল ওভারব্রিজ এলাকার রায়হান নামে এক ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সালাম সরদার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এসব ব্যবসা করি না। কিছু শ্রমিক এখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা শুধু গাড়ি ভাড়া দিয়েছি।’ সরকারি অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো সরকারি অনুমতি নেই।’

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা যেদিন অভিযান পরিচালনা করবে, সেদিন পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।’

যমুনা বহুমুখী সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘কেপিআই এলাকায় কোনো অবৈধ দখল বা অনুমোদনহীন কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। আমরা এর আগেও অভিযান পরিচালনা করেছি। খুব শিগগিরই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিতের আশ্বাস দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর