Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বেরোবিতে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিকৃতিতে ছাত্রদলের জুতা নিক্ষেপ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ আগস্ট ২০২৬ ২১:৪২

দ্ধাপরাধীদের প্রতিকৃতিতে ছাত্রদলের জুতা নিক্ষেপ

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটকে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা–বাঁশ হাতে বিক্ষোভ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সোমবার (৩ আগস্ট) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের জেরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পৃথক বিক্ষোভের ডাক দিলেও শিবিরের কোনো নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি। উত্তেজনা বাড়ায় ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ‘রাজাকার’ লেখা প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করেন এবং ছাত্রশিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। ব্যানারে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলীসহ জামায়াতের বিভিন্ন নেতার ছবি ছিলো। এছাড়া লাঠিসোঁটা ও বাঁশের পাশাপাশি কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে শিবির আয়োজিত ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি পাওয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলী ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসিকে ‘বিচারিক হত্যা’ (জুডিশিয়াল কিলিং) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ওই ব্যানার সরানোর দাবি জানায় ছাত্রদল। শিবির অস্বীকৃতি জানালে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। ইট-পাটকেল, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটার ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল সাড়ে ৫টায় লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিলেও বিকেল পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশে শিবিরের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। তবে লালবাগেই অবস্থান নেন।

একই স্থানে দুই সংগঠনের মুখোমুখি কর্মসূচির কারণে পুনরায় সহিংসতার আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল, সমাবেশ ও জনসভা নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারির জন্য রংপুর তাজহাট থানায় আবেদন করে। পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে বহিরাগত দর্শনার্থী ও সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী। কমিটিকে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর