বরিশাল: বরিশালের উজিরপুর পৌরসভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী সাঁকো লাল ফিতা কেটে উদ্বোধন করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান। উদ্বোধনের সময় ঢোল-বাদ্য, গান ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে একটি খালের ওপর সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। খালের উত্তর পাড়ে হেরিংবোন সড়ক (ইট বিছানো সড়ক) থাকলেও সেটি ভাঙাচোরা। এ ছাড়া উঁচু জোয়ারের সময় সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ওই এলাকার জেলে ও অন্য বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি নির্মাণ করেন।বৃহস্পতিবার বিকেলে শহিদুল ইসলাম খান স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সাঁকোটি ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয়। ফিতা কাটার পাশাপাশি ঢোল-বাদ্য ও বয়াতিদের গান পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়। উপস্থিত নারী-পুরুষের মধ্যে মিষ্টিও বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ এ ধরনের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনেকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উজিরপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, সাঁকোটি উদ্বোধনের কোনো আগাম প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানতেন না। এলাকার নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে আমাকে সেখানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে দেড় থেকে ২০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা লাল ফিতা কেটে সাঁকোটি উদ্বোধনের অনুরোধ করলে আমি তা করি। এর মধ্যেই গান-বাজনা ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়। এটি সম্পূর্ণ এলাকাবাসীর উৎসাহে হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগটি ইতিবাচক। তবে একজন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নেতা হিসেবে এ ধরনের আয়োজনের ধরন নিয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।