রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শরিফুল ইসলাম হীরা নামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার তোড়ার মোড় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। গ্রেফতার হওয়া কামরুল ইসলাম ফকির গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত সিদ্দিক ফকিরের ছেলে।
আর নিহত হীরা গোয়ালন্দ উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার মো. জাবেদ আলীর ছেলে। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার তোরাই মোড়-কাজীপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে টাকা-পয়সার দেনা-পাওনা নিয়ে হীরা ও কামরুলের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে কামরুল ছুরি দিয়ে হীরাকে আঘাত করেন। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটি ঘটনাস্থলে ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় হীরাকে তার স্ত্রী শামসুন নাহার মুক্তাসহ পরিবারের সদস্যরা গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের স্ত্রী শামসুন নাহার মুক্তার এজাহারের ভিত্তিতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশ (ডিবি) তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে গোয়ালন্দের ছোটো ভাকলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে রাজবাড়ীর সিজিএম আদালতের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইনের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’