Tuesday 11 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ছাদ থেকে ফেলে ছাত্রদল নেতা হত্যায় ৪ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১১ আগস্ট ২০২৬ ১০:১৬

রংপুর: সাভারে এক নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়ে পীরগাছা থানা পুলিশের অভিযানে ছাত্রদল নেতা মোনারুল ইসলাম বকশী নামে এক যুবককে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগাছা থানার চার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তারকে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে গত ৬ আগস্ট গভীর রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি পুলিশ দল সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে অভিযান চালায়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরেই ওই এলাকা থেকে ঘরছাড়া এক ছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান দলের সঙ্গে সাধারণ পোশাকে জিডির বাদী মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালকও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের অভিযান চলাকালীন মোনারুল ইসলাম বকশীকে বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোনারুল ইসলাম বকশী ওই ছাত্রীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। তবে পুলিশের অভিযানে তিনি বাধা দিয়েছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, অভিযানের একপর্যায়ে মোনারুলকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং তিনি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মোনারুল ইসলাম বকশী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর আলীর ছেলে। তার বাবার চাকরির সুবাদে তারা সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। মোনারুল ইসলাম বকশী সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার পর ৮ আগস্ট বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পীরগাছা থানার প্রধান ফটকে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা দ্রুত বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন এবং ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তাদের তোপের মুখে পড়ে থানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।

ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। রোববার রাতে ৪ পুলিশ সদস্যকে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মালিক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা ঘটনার সঠিক কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করবে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পীরগাছা থানাকে সহযোগিতা করতে এসআই আব্দুল হাইসহ দুইজন কনস্টেবল সাভারে গিয়েছিলেন। তবে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অভিযানের নামে কারও প্রাণহানি গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনের সময় আইনের আওতায় থাকতে হবে। তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। তারা দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সাভারে এক ছাত্রদল নেতার হত্যাকাণ্ড ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনা। পুলিশের অভিযান প্রাণঘাতী হওয়ায় প্রশাসনের ওপর প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত অভিযুক্ত সদস্যদের প্রত্যাহার ও তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে। ঘটনার পরিপূর্ণ সত্য উদঘাটন এবং শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।