মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মাণের এক মাসের মধ্যেই পুকুরপাড়ের প্যালাসাইডিংয়ের একটি অংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথভাবে পাইলিং না করায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, নির্মাণকাজে অনিয়ম নয়, বরং ত্রুটিপূর্ণ নকশার কারণে প্যালাসাইডিং ধসে পড়েছে।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্র্যাক অফিস থেকে পোস্ট অফিস পর্যন্ত সড়কের পাশে ঐতিহ্যবাহী রিজার্ভ ট্যাংক পুকুরে এ ঘটনা ঘটেছে। সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পুকুরের পাড় রক্ষায় প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছিল।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গার্লস স্কুল সড়ক থেকে সিআরপি এবং ব্র্যাক অফিস থেকে পোস্ট অফিস পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪৪৫ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে রয়েছে রিজার্ভ ট্যাংক পুকুর। পুকুরের পাড়ের মাটি যাতে সড়কের দিকে বা পুকুরে ধসে না পড়ে, সেজন্য পুকুর ঘেঁষে প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির পর পুকুরের দক্ষিণ পাশের প্যালাসাইডিংয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে।
ধসে পড়া অংশে পুকুরপাড়ের মাটি সরে গিয়ে ঢাল তৈরি হয়েছে। প্যালাসাইডিংয়ের কয়েকটি আরসিসি খুঁটি হেলে পড়েছে। ভাঙা অংশের পাশে ইট, মাটি ও নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে রয়েছে। পুকুরের পানির একেবারে কাছ পর্যন্ত মাটি সরে যাওয়ায় পাড়ের স্থিতিশীলতা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পুকুরের অপর পাশের প্যালাসাইডিংয়ের কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও মাটি সরে গিয়ে সড়কের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী ইসতিয়াক বলেন, ‘প্যালাসাইডিংয়ের কাজ হয়েছে খুবই নিম্নমানের। যে আরসিসি খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে প্রয়োজন অনুযায়ী রড ব্যবহার করা হয়নি। নিম্নমানের খোয়া ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট দিয়ে খুঁটি তৈরি করা হয়েছে। আর খুঁটিগুলো যথাযথভাবে পাইলিং না করে সামান্য গর্ত করে বসানো হয়েছে। ফলে বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ার পর সামান্য চাপেই প্যালাসাইডিং ধসে পড়েছে।’
আরেক বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ চলার সময়ই কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ঠিকাদারের লোকজনকে নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। বিষয়টি পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের একজন প্রকৌশলীকেও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি।’
স্থানীয় আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফাঁকিবাজির কাজ এমনই হওয়ার কথা। ঠিকাদার ও যারা কাজের তদারকি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে এভাবেই কাজ চলতে থাকবে এবং দুর্ভোগ পোহাতে হবে সাধারণ নাগরিকদের।’
প্যালাসাইডিং নির্মাণের কাজ গত জুন মাসে শেষ হয়। কিন্তু এক মাস না যেতেই ভারী বৃষ্টির পর এর একটি অংশ ধসে পড়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
কাজটি যৌথভাবে করছে এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং ও মোস্তাফিজুর রহমান নামের দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্যালাসাইডিং ধসে পড়ার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, ‘প্যালাসাইডিংয়ের ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের কারণেই এমনটি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নকশা অনুযায়ী ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের খুঁটি বসানো হয়েছে। কিন্তু ওই স্থানে কমপক্ষে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের খুঁটি প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি পরে পৌরসভার প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে খুঁটি তৈরিতে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি।’
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবদুল বাতেন বলেন, ‘মূলত অতিবৃষ্টির কারণে প্যালাসাইডিং ধসে পড়েছে। তবে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। পরীক্ষায় কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে নির্মাণকাজের ত্রুটি চিহ্নিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্যালাসাইডিং দ্রুত সংস্কার করা হোক।