Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মন্ত্রীর আশ্বাসেও শেষ রক্ষা হলো না, নদীগর্ভে বিলীন চরাঞ্চলের একমাত্র বিদ্যালয়

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৫৯ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ২০:১৫

গাইবান্ধা: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে গেলেও শেষ রক্ষা হলো না গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের চর এলাকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির। তীব্র নদীভাঙনের মুখে বিদ্যালয় ভবনের একটি অংশ এরইমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবন ও মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভাঙনরোধে সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চর এলাকার শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা ছিল বিদ্যালয়টি। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার ভাঙন থেকে প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও, জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করায় আশায় বুক বাঁধেন এলাকাবাসী। তবে এরপরও দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘টিও, এটিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্কুলটি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকালও স্কুলে পাঠদান চলেছে। ভোরের দিকে ভাঙন তীব্র হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এটিও স্যারকে জানাই। তাঁর পরামর্শে ১৪ জন শ্রমিক নিয়ে বিদ্যালয়ের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করি। এরই মধ্যে একটি বেড়া ও তিনটি জানালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সবাই শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন, একটি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। ফেললে হয়তো বিদ্যালয়টির এই পরিণতি দেখতে হতো না।’

ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘নদীভাঙন শুরুর পর থেকেই প্রতিটি বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘নতুন করে ভাঙন শুরুর খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। নদীভাঙন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ামাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।’

স্কুল এলাকায় আগে কেন প্রতিরোধমূলক কাজ করা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিদ্যালয় রক্ষায় এবার আলাদা কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ ছিল না। তবে গত বছর বিদ্যালয়ের উজান ও ভাটিতে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল।

এদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর