Wednesday 19 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাগেরহাটে সাড়া ফেলেছে খেজুর বীজের কফি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৮

খেজুর বীজ থেকে তৈরি করা হচ্ছে কফি।

বাগেরহাট: খেজুর খাওয়ার পর যে বীজ এতদিন অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দেওয়া হতো, সেই বীজ থেকেই তৈরি হচ্ছে সুগন্ধি কফি। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে বাগেরহাটের ফকিরহাটে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন উদ্যোক্তা হাওলাদার মোহাম্মদ আলী। স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে তার তৈরি খেজুর বীজের কফি বেশ সাড়া ফেলেছে।

উদ্যোক্তা জানান, ইউটিউবে খেজুর বীজ দিয়ে কফি তৈরির একটি ভিডিও দেখেই তার মাথায় এ ধারণা আসে। এরপর নিজ উদ্যোগে দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে উৎপাদন শুরু করেন। তার দাবি, বাগেরহাট জেলায় তিনিই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে খেজুর বীজের কফি উৎপাদন করছেন।

তিনি জানান, প্রায় ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষুদ্র পরিসরে উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন খেজুরের বীজ সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো, ভাজা, গুঁড়া করা ও প্যাকেটজাতকরণের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কফি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, খেজুরের মৌসুমে কাঁদি কিনে বীজ সংগ্রহ করা হয়। পরে বীজ পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে খোসা ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর বালির সঙ্গে কড়াইয়ে নির্দিষ্ট সময় ভেজে মেশিনে গুঁড়া করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় না।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকার কফি বিক্রি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ক্রেতা আসছেন। ভবিষ্যতে অনলাইনের মাধ্যমে দেশব্যাপী এবং বিদেশেও এই পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও কফি পান করার পর এর স্বাদ ও ঘ্রাণে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। এলাকার অনেক মানুষই এখন আগ্রহ নিয়ে এটি কিনছেন।

নিয়মিত এই কফি পানকারী কাওসার আহমেদ বলেন, কফিটি তার ভালো লাগে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু উপকার অনুভব করলেও এর স্বাস্থ্যগত কার্যকারিতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে—এমন দাবি করেননি।

উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মামুন শেখ বলেন, এই উদ্যোগের কারণে স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। মৌসুমজুড়ে কাজ করে তারা বাড়তি আয় করতে পারছেন।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, সাধারণত খেজুরের বীজ ফেলে দেওয়া হয়। সেই বীজ ব্যবহার করে মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য তৈরি একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এটি স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে খেজুর বীজের কফির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।#

সারাবাংলা/এআর