Saturday 29 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে ৪ খুন: আসামিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াবেন না আইনজীবীরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ আগস্ট ২০২৬ ১৯:১৫

রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর ঘোষণা আইনজীবীদের

রংপুর: নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি।

তবে তদন্ত সঠিকভাবে না হলে পরবর্তীতে তারা আবারও আইনি লড়াইয়ে ফিরতে পারে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা আইনজীবী সমিতিতে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য সমাজকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া— আইনজীবীরা শুধু অর্থের বিনিময়ে অপরাধকে সমর্থন করেন না। আমরা চাই, এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হোক এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হোক।’

বিজ্ঞাপন

আফতাব উদ্দিন আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহ, এক মাস বা ছয় মাস— যেকোনো সময়ের জন্য বলবৎ থাকতে পারে। পরবর্তী পরিস্থিতি ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডে গভীরভাবে শোকাহত এবং সমব্যথী। এমন নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদ না করলে আমাদের অস্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমরা সাময়িকভাবে বিরত থাকলেও, যদি পরবর্তীতে তদন্তে কোনো গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব ধরা পড়ে, তাহলে আমরা আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী না থাকলেও বিচার প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। কারণ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলায় আসামির পক্ষে আইনজীবী না থাকলে সরকারি খরচে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

পুলিশ ইতোমধ্যে দুই যুবক— সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করেছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে তাদের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সমিতির নেতারা।

আফতাব উদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডকে যেন কেউ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মহল এই ঘটনাকে রাজনৈতিক আঙুলে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা সম্পূর্ণ অনুচিত। যেহেতু মামলাটি তদন্তাধীন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক হবে না।’

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্তকে আইনবিদ ও সাধারণ মানুষ নানাভাবে বিশ্লেষণ করছে। কেউ কেউ একে ‘আইনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ’ বললেও, অনেকে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সমিতি স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কোনো চূড়ান্ত বিরতি নয়, বরং নৈতিক প্রতিবাদের অংশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সমিতির সদস্য ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, ধর্ম ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাওছার আলীসহ অন্যান্য নেতারা।

এদিকে এই সিদ্ধান্তের পর থেকে রংপুরের আইনজীবী মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি ‘নৈতিক দৃষ্টান্ত’ যা ভবিষ্যতে অন্য কোনো নৃশংস অপরাধের ঘটনায় আইনজীবীরা আরও সচেতন ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করবে। তবে কিছু বিশ্লেষক মত দিয়েছেন, আসামিদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব না থাকলে বিচার প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে— যদিও সরকারি আইনজীবী নিয়োগের বিধান থাকায় তা পূরণ হবে।

তবে আইনজীবী সমিতির এই অবস্থান যেন বিচারকে প্রভাবিত না করে, বরং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সহায়ক হয়— এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর