Monday 31 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুর হত্যাকাণ্ড: ইয়াবা সেবনের স্বীকারোক্তির সঙ্গে মিলেনি ডোপ টেস্টের ফল

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৬ ১৬:২৪

রংপুর হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া ওই দুই আসামি।

রংপুর: রংপুরের আলোচিত চার হত্যাকাণ্ড মামলার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল নেতিবাচক এসেছে। পুলিশ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তির সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলের সুস্পষ্ট দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, যা তদন্তে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল আসামিদের ইউরিনের নমুনা সংগ্রহ করে। অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর এই মামলায় আসামিদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের কারাগার থেকে বাইরে না এনে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের কারাগারে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, আদালত ডোপ টেস্টের আবেদন মঞ্জুর করার পরই এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় আসামিদের বাইরে আনা হলে হামলা বা মব সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এ কারণে কারাগারেই ইউরিনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’

এর আগে, আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তারা ৮-৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করেছিলেন। কিন্তু ডোপ টেস্টের ফলাফল নেতিবাচক আসায় তাদের এই বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ঘটনার ১০ দিন পর নমুনা সংগ্রহ করা হলেও মাদক সেবনের প্রমাণ না মেলায় তদন্তে নতুন প্রশ্ন দেখা উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চারজনের মৃত্যুর কারণ ‘শ্বাসরোধ’ বলে নিশ্চিত করেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন।

এ ঘটনায় পরদিন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়। তারা প্রতিবেশী দেবু বাড়ির ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠে ইয়াবা সেবন করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। গণপতি তাদের দেখে ফেললে এবং বাধা দিতে গেলে তারা প্রথমে তাকে এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের শ্বাসরোধে হত্যা করে।

এরইমধ্যে মামলার তদন্তভার কোতয়ালি থানা থেকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে দ্রুত অভিযোগপত্র ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে ডোপ টেস্টের নেতিবাচক ফলাফল তদন্তকে নতুন জটিলতায় ফেলেছে। আসামিদের স্বীকারোক্তির সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলের এই দ্বন্দ্ব নিরসন করতে পুলিশকে আরও গভীর তদন্ত করতে হবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া ডিএনএ টেস্টের ফলও এখনো পাওয়া যায়নি, যা তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর