কুমিল্লা: ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে ঘিরে কুমিল্লায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুমিল্লা থেকে প্রায় এক হাজার গাড়িতে করে লক্ষাধিক নেতাকর্মী লংমার্চে অংশ নেবেন। পাশাপাশি কর্মসূচির শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লার একটি স্থানীয় মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা মহানগর জামায়া তের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
সভায় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় দুপুর ১২টায় একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে দুপুর ১টায় চৌদ্দগ্রামে আরও একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, লংমার্চকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর এলাকায় ইতোমধ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত, গাড়ি ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসূচিস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পরিকল্পনা। বিশেষ করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, কুমিল্লা থেকে প্রায় এক হাজার গাড়িতে লক্ষাধিক নেতাকর্মী লংমার্চে অংশ নেবেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের কারণে কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। লংমার্চ ও পথসভা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে লংমার্চের বিভিন্ন দাবির কথাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
আয়োজকরা বলছেন, এসব দাবিকে সামনে রেখে ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি করতে কুমিল্লায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিকে সফল করতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
এদিকে লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায় সেদিন যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।