রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থীর মশারির ওপর থেকে একটি বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে হলের ১২১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সোয়ান’ এসে সাপটি উদ্ধার করে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর একটি সাপ দেখতে পান। পরে বিষয়টি রুমমেটদের জানালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংস্থা সোয়ানকে খবর দেন। খবর পেয়ে সংস্থাটির সদস্যরা হলে এসে সাপটি উদ্ধার করেন। সাপটি ‘বিষধর কালাচ’ বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
একই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর বিষধর সাপটি দেখতে পাওয়া যায়। পরে সোয়ানকে খবর দিলে তারা এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’
হলে সাপের উপদ্রব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হলের প্রাধ্যক্ষকে অনেকবার বলেও কোনো সমাধান হয়নি। হলের চারপাশ জঙ্গল হয়ে আছে। কয়েকদিন পরপরই সাপ বের হয়। সবসময় সতর্ক থাকতে হয়, সাপ হলে ঢুকেছে কি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কাল রাতে যদি সাপটা কামড় দিত এবং একজন ছাত্রের মৃত্যু হতো, সেই দায় কি হল প্রভোস্ট নিতেন?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, ‘শনিবার রাতে এক শিক্ষার্থী ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর একটি সাপ দেখতে পায়। পরে সে রুমমেটকে জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসকিউ টিমকে খবর দেওয়া হয়। রেসকিউ টিম এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাপের উপদ্রব ঠেকাতে এর আগেও কার্বলিক এসিড ব্যবহার করা হয়েছে এবং হলের চারপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। গত সপ্তাহেও প্রশাসনের উদ্যোগে হলের পেছনের অংশ পরিষ্কার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, পেছনের দিক দিয়ে সাপটি হলে প্রবেশ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘হলের পেছনে ভালো মানের নেট লাগানো এবং ড্রেনগুলো পুনরায় পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’