কুমিল্লা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, জনগণের দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় পর্যায়ের লংমার্চ শেষে ঢাকায় বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’ ওই সমাবেশে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে যাওয়ার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সমালোচনা করে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেন সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একসঙ্গে নিয়ে বসে আছেন। অথচ নিজের মন্ত্রণালয়ের খবরও তিনি ঠিকমতো রাখতে পারছেন না।’ এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ এলাকা দিয়েই বেশি মাদক প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত কুমিল্লা নামে বিভাগ বাস্তবায়ন করেন। বিভাগ নিয়ে কোন টাল বাহানা করবেন না।’
লংমার্চকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা পথসভাস্থলে এসে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরের মধ্যেই পুরো পথসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আশপাশের সড়ক ও এলাকায়ও বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানান।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) কর্নেল (অব.) অলি আহমদ-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বক্তারা লংমার্চের উদ্দেশ্য ও জনগণের বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তারা দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পদুয়ার বাজারে পথসভা শেষে লংমার্চের বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা ত্যাগ করে। পরে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী লংমার্চটি চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যায়।