Thursday 01 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বৈশাখী উৎসবের আনন্দে মেতেছেন ভিনদেশীরাও

‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২০

বৈশাখী শোভাযাত্রায় ভিনদেশীরা। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: পহেলা বৈশাখ মানেই তপ্ত রোদে কাঠফাটা গরম ছাপিয়ে বাঙালির হৃদয়ে বয়ে যাওয়া এক পশলা প্রশান্তি। কিন্তু এই আনন্দের রঙ এখন আর কেবল লাল-সাদা শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সীমাবদ্ধ নেই।
‎
‎বাঙালির এই প্রাণের উৎসবে এবার মিশে গেছে বৈশ্বিক সুর, যেখানে সীমানা ছাড়িয়ে ভিনদেশি অতিথিরাও একাত্ম হয়েছেন লাল-সাদার মিছিলে।
‎
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ‎রাজধানীর রাজপথে হাজারো বাঙালির ভিড়ে মিশে আছেন দূর প্রবাস থেকে আসা ভিনদেশি পর্যটকরা। তাদের পরনে সুতির পাঞ্জাবি, কপালে টিপ, কিংবা মাথায় রঙিন বৈশাখী গামছা বা পট্টি। বিদেশের যান্ত্রিক জীবন ফেলে তারা যেন আজ পুরোপুরি মিশে গেছেন বাংলার এই মাটির উৎসবে।
‎
‎মেলা প্রাঙ্গণে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবের আবেদনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কেউ হাতে একতারা নিয়ে মেঠো সুরের তালে পা মেলাচ্ছেন, কেউবা অবাক বিস্ময়ে দেখছেন বিশাল আকৃতির মুখোশ আর কারুকার্যময় পুতুলনাচ। তাদের এই আনন্দমুখর পদচারণা প্রমাণ করে, শিল্পের কোনো সীমানা নেই এবং বাঙালির আতিথেয়তা যেকোনো কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে মানুষের মন জয় করতে সক্ষম। এই বিদেশি বন্ধুদের কাছে পহেলা বৈশাখ মানে কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ পরিবর্তন নয়, বরং প্রাণের টানে এক বিশাল জনসমুদ্রে হারিয়ে যাওয়ার এক বিরল সুযোগ।

বিজ্ঞাপন


বৈশাখী শোভাযাত্রায় ভিনদেশীরা। ছবি: সারাবাংলা

‎
‎উচ্চকিত ঢাকের শব্দ আর নাগরদোলার কিচিরমিচির শব্দের মাঝে তাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বৈশাখ আজ বিশ্বজনীন। মেলায় আসা এক বিদেশি পর্যটকের মতে, পৃথিবীর অনেক দেশের কার্নিভাল তারা দেখেছেন, কিন্তু এমন প্রাণবন্ত এবং অকৃত্রিম ভালোবাসা তারা আর কোথাও খুঁজে পাননি। মাটির সোঁদা গন্ধে আর বাউলের গানে তারা খুঁজে পেয়েছেন এক অদ্ভুত শান্তি।
‎
‎আরেকজন সুদূর ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা পর্যটক, যিনি জীবনের প্রথমবার পা রেখেছেন বাংলাদেশের মাটিতে। তার কাছে এবারের বৈশাখ কেবল একটি পঞ্জিকার পরিবর্তন নয়, বরং এক নতুন সংস্কৃতির জাদুকরী অভিজ্ঞতা। বৈশাখী শোভাযাত্রার বিশালাকার মুখোশ, বাদ্যের তালের সাথে মানুষের উচ্ছ্বাস আর চারপাশের রঙিন আবহ দেখে তিনি রীতিমতো অভিভূত। তার চোখেমুখে ছিল বিস্ময় আর ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি।
‎
‎তিনি জানান, হাজার হাজার মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর সম্প্রীতির এমন রূপ এর আগে তিনি আর কোথাও দেখেননি। ঢাকের শব্দ যেন মুহূর্তেই তাকে আপন করে নিয়েছে।

বৈশাখী সাজে সেজে থাকা এই বিদেশি অতিথির উচ্ছ্বাস প্রমাণ করে দেয় যে, আনন্দের কোনো নির্দিষ্ট ভাষা নেই; বাঙালিয়ানা আর আতিথেয়তার এই চিরায়ত শক্তি মুহূর্তেই একজন ভিনদেশিকে করে তুলতে পারে ঘরের মানুষ। প্রথমবার বাংলাদেশে এসেই বৈশাখের এমন জাঁকজমকপূর্ণ বরণ তাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে, তিনি বারবার বলছিলেন, এই আনন্দধারা আর মানুষের ভালোবাসা তার হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
‎
‎মূলত ভিনদেশিদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ আমাদের সংস্কৃতিকে যেমন বিশ্ব দরবারে আরও পরিচিত করছে, তেমনি বৈশাখী মেলাকে দান করছে এক অনন্য আন্তর্জাতিক মাত্রা। এই সম্প্রীতির মেলা এভাবেই প্রতি বছর মানুষকে নতুন করে ভালোবাসতে শেখায়।
‎

বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর