ঢাকা: নিউমার্কেট এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন প্রকল্প অনুমোদন করেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, ধানমন্ডি-নিউমার্কেট এলাকার পানি বের হওয়ার রাস্তা ছিল বিডিআর এলাকার ভেতর দিয়ে। বিডিআর ট্র্যাজেডির পরে ওই রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে জোর দিয়েছেন। এখানে একটি নতুন প্রকল্প আমরা গ্রহণ করেছি, যেটা তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। তবে এটা কার্যকর হতে বছর দুয়েক লাগতে পারে।
সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা সমস্যা পর্যবেক্ষণে এসে তিনি এসব কথা বলেন। এ দিন বিকেল ৪টায় তিনি ঢাবির বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, ‘গতকালও আমি পানির মধ্য দিয়ে যখন আসছিলাম, তখন ড্রেনগুলোর মধ্যে হাজার হাজার পলিথিন, এমনকি লেপ-তোষকও ঢুকানো ছিল। এখন আমাদের পানি নিষ্কাশনের রাস্তা একমাত্র ড্রেন ব্যবস্থা ছাড়া কিছু নেই। ঢাকা শহর অপরিকল্পিতভাবে বিকাশ হওয়ায় খাল-ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর খাল খননের নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকার খালগুলো আমরা এখনো মুক্ত করতে পারিনি। এবার তাড়াতাড়ি বর্ষা চলে আসছে। আমরা বর্ষার পর প্রতিটা খাল খনন করব। নিষ্কাশনের জন্যে হয় বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যায় পানি নেওয়ার পরিকল্পনা আগে নেওয়া হয়নি। এবার আমরা সেই কার্যক্রম শুরু করব।’
ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়া প্রতিরোধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা জরিপ করে দেখেছি, কোথায় কোথায় এর প্রকোপ বেশি হয়। সে অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করছি সেসব জায়গায় পানি জমাট বেঁধে লার্ভা যাতে সৃষ্টি না হয়।’
এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের জন্যে দু’টি ফগার মেশিন প্রদানের ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে আবারো পানি জমলে পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন। এ ছাড়া পলিথন বন্ধে শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা তৈরির পরামর্শ দেন।
এ সময় তার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।