Sunday 26 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাজারে সেঞ্চুরি হাঁকাল সবজি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৮০

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:১৬ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ ১৮:০২

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির আঁচ লেগেছে রাজধানীর কাঁচা বাজারে। শুক্রবারের বেশিরভাগ সবজির দাম সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। পেঁপে ৪০ টাকা, দুই একটি সবজি ৮০ টাকা, আর বাকি সব সবজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির বাড়তি দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

আজকের বাজারে প্রতি কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১৪০ টাকা এবং পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়, টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, উচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ১২০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং কাঁকরোল প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাসাবো বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী হায়দার আলী। সবজির এমন বাড়তি দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরেই সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। তবে আজ এসে দেখছি, সবজির দাম আরও বেড়েছে। বলতে গেলে বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বেশিরভাগ সবজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচ কিনলাম ২৮০ টাকা কেজি, অনেক জায়গায় আবার ৩০০ টাকা। এত দাম দিয়ে সবজি কিনে খাওয়া কি সম্ভব? বর্ষায় বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বাড়তে পারে। তাই বলে এতটা বাড়বে আর বাজারে কোনো মনিটরিং হবে না, সেটা কীভাবে হয়? বিক্রেতারা যে যার মতো করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। কোনটার কত বাড়বে, সেটা দেখার মনে হয় কেউ নেই।’

একই রকম অভিযোগ জানিয়ে রামপুরা বাজারের আরেক ক্রেতা মাসুদ রানা বলেন, ‘গত কিছুদিন তাও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে সবজিগুলো ছিল। আজকের বাজারে বেশিরভাগ সবজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা। সবজিই যদি এত বেশি দামে কিনে খেতে হয়, তাহলে মাছ, মাংস আর মুরগি কীভাবে কিনব? সেগুলোর তো আরও বেশি দাম।’

সবজির বাড়তি দাম নিয়ে রাজধানীর মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘সবজির দাম কমই যাচ্ছিল, কিন্তু গেল কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কম। অনেক স্থানে কৃষকের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বৃষ্টির কারণে ঢাকায় সবজি কম আসছে। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। ‌বৃষ্টি চলমান থাকাকালীন সময়ে সবজির দাম বাড়তিই যাবে। আবহাওয়া ভালো হওয়ার পর থেকে সবজির দাম কমে আসবে।’

এদিকে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে মাছের দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বেড়েছে। পাঙাশ মাছের দামও ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কিছুটা বেড়েছে চাষের কই, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।

গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। প্রতি কেজি গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে খরচ করতে হবে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। অন্যদিকে মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর