ঢাকা: বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন (ইএসজি)-ভিত্তিক ব্যবসায়িক কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর বাংলামোটরের নাসির ট্রেড সেন্টারে দেশের শিল্পখাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও উদ্ভাবননির্ভর করে তুলতে দুই দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দুই দিনের এ প্রশিক্ষণে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও বিদ্যুৎ খাতের প্রায় ৪৫ জন কর্মকর্তা ও পেশাজীবী অংশ নিয়েছে।
এওটিএস জাপানের ওয়ার্লড নেটওয়ার্ক ফর ফ্রেনডশীপের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে জাপানের কারিগরি সহযোগিতা ও টেকসই অংশীদারিত্ব সংস্থা বাংলাদেশ এওটিএস এলামনাই সোসাইটি এবং বাংলাদেশ-জাপান ট্রেনিং ইনসটিটিউট (বিজেটিআই)। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ এওটিএস প্রাক্তন এলাম বাংলাদেশ এওটিএস এলামনাই সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং ওয়ার্লড নেটওয়ার্ক ফর ফ্রেনডশীপের সদস্য সচিব মো. মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন এএনএম শাহজাহান ও এসএএম ইউসুফ।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এওটিএস প্রাক্তন শিক্ষার্থী সমিতির দেশীয় প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনের বিকাশ এবং কাজের মানোন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পের অগ্রগতি নির্ভর করে জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর।
প্রশিক্ষণে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শ্রীলঙ্কার শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী হেইলিস প্ল্যান্টেশনস সেক্টরের অধীন কেলানি ভ্যালি প্ল্যান্টেশনস পিএলসির মানবসম্পদ ও করপোরেট টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রধান এবং জেনারেল ম্যানেজার ড. অনুরুদ্ধ গোমেজ।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে এবং বৈশ্বিক গ্রাহক ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন (ইএসজি)–কে ব্যবসায়িক কৌশল ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করা। নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ বিভিন্ন শিল্পখাতকে দ্রুত রূপান্তরিত করছে। এসব পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশের শিল্পখাতেও পড়বে। তাই টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়ানো, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।