ঢাকা: বাজারে সবজি, মাছ, মাংস এবং ডিমসহ বেশিরভাগ জিনিসের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের পকেটের ওপর চাপ বাড়ছে। প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম জিনিস কিনে বাড়ি ফিরছেন তারা। কারণ দেশজুড়ে টানা বৃষ্টিতে মাঠের ফসল নষ্ট হয়েছে এই অজুহাত ছাড়ছে না সবজির বাজারকে। বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজির।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।
বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি। বাজারে লম্বা বেগুন ১২০ টাকা বিক্রি হলেও গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, বাকি সবজিগুলোর ৮০ থেকে ১২০ টাকার ঘরে। এ ছাড়া, কাঁচা মরিচের কেজি প্রায় ৪০০ ছুঁয়েছে। মান ও জাত ভেদে বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়।
এছাড়া মাছের দামেও ক্রেতারা সুবিধা করতে পারছে না।
বিক্রেতারা বলছেন, চলতি মাসে অতি বৃষ্টির কারণে ফসলের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই সবজির দাম বাড়তি। আরও কিছুদিন সবজির এমন বাড়তি দামই থাকবে।
শুক্রবারে বাসাবো বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আজকের বাজারে প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৮০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১২০ টাকা ও জালি প্রতি পিস ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া, লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতিকেজি ১০০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, লতি প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ জাত ও মান ভেদে প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী রহিম মিয়া বলেন, ‘গত তিন দিন যাবত সবজির দাম অতিরিক্ত বেশি যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বৃষ্টির ছিলো, এখন সেভাবে বৃষ্টি নেই, তবুও দাম অতিরিক্ত বেশি। আজকে বাজারে বেগুন দেড়শো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা ছুঁই ছুঁই।’
বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে মালের সরবরাহ কম, কারণ বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারে এখন বলতে গেলে দুই একটা সবজি ১০০ টাকার নিচে, বাকি সব ১০০ টাকার উপরে। এত বেশি দামে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সবজি কিনে খাওয়া কঠিন।
সবজি দাম বৃদ্ধির বিষয়ে মুগদা বাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গেল কিছুদিন যাবত সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। মূলত বৃষ্টির কারণে ফসলের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কাঁচা মরিচের গাছ নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম।’
টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা ফসলের খেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না, সব মিলিয়ে বাজারে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। আরও কিছুদিন সবজির দাম এমন বাড়তি থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আজকের বাজারে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি। গোল বেগুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে মিষ্টি কুমড়া আর পেঁপের দাম কিছুটা কম। বাকি সব সবজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ বা ১২০ টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে।’
বেড়েছে মাছ-মুরগি-ডিমের দাম।
শুক্রবারে সপ্তাহে ফের বেড়েছে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। তবে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে মাছের বাজার।
সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে প্রতি কেজি মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাঙাশের কেজি এখন ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পুকুরে চাষ করা পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল ও পোয়া মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ওজন ভেদে রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও টেংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, বড় আকারের শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাকে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
বাসাবো বাজারের বিক্রেতারা জানান, বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেশ চড়া। মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, রূপচাঁদা (সাদা) ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও মাছের আকারের ওপর ভিত্তি করে এসব দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলে তিনি জানান।
মাছের পাশাপাশি দাম বেড়েছে ডিমেরও। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়। গরুর মাংসের দাম স্থির থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। আর খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘এ সপ্তাহে মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই আছে। প্রতিদিন কেজিতে ৫-১০ টাকা ওঠানামা করে। আজ ১৯০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছি।’
মাছ কিনতে আসা সাহাদত হোসেন বলেন, ‘মাছের দাম নাগালের বাইরে। প্রতিটি মাছের দামই বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা চলতে পারছি না।