ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি নিবেশ (রোসনি) নারী শিক্ষার্থীদের চলমান ন্যায্য অধিকারভিত্তিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বৈষম্যমূলক ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল করে নারী শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রোসনির সভাপতি রিফতি-আল-জাবেদ বলেন, রোকেয়া হলের সংস্কৃতি কখনোই বৈষম্যমূলক হতে পারে না। হলের মেয়েদের চলাচলে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ বা হেনস্তার সংস্কৃতি রোকেয়া হলের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই চলমান সমঅধিকারের আন্দোলনের সঙ্গে সংগঠনটি একাত্মতা প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তার নামে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলে একতরফা নিয়ন্ত্রণ আরোপ কোনো টেকসই সমাধান নয়। প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। শিক্ষার্থীদের অধিকার সংকুচিত না করে বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই হওয়া উচিত প্রশাসনের লক্ষ্য।
রোসনি আরও উল্লেখ করে, গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ফেরা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, গবেষণা, সংগঠনিক দায়িত্ব পালন, জরুরি চিকিৎসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজন- এসব বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। এসব বিষয় উপেক্ষা করে শুধু নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ সমতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিবৃতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলোকে যৌক্তিক ও সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- বৈষম্যমূলক ‘সান্ধ্য আইন’ অবিলম্বে বাতিল করে নারী শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সকল ছাত্রীকে প্রয়োজন অনুযায়ী হলে প্রবেশ ও অবস্থানের সুযোগ দেওয়া এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় তাঁদের নারী আত্মীয়দের জন্য যৌক্তিক ও মানবিক প্রবেশনীতি নিশ্চিত করা।
রোসনি মনে করে, একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও মানবিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হলো নারী শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার ও মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।