Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কৃষ্ণচূড়া-চন্দ্রমল্লিকার উৎসবের দ্বার খুলছে শুক্রবার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৭ | আপডেট: ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৯

১৪০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি লাখো ফুলে সেজেছে চট্টগ্রামে সাগরতীর।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: গাঁদা, জবা, কৃষ্ণচূড়া, চন্দ্রমল্লিকা, আরও আছে লিলিয়াম, ম্যাগনোলিয়া ও ক্যামেলিয়া— এমন ১৪০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি লাখো ফুলে সেজেছে চট্টগ্রামে সাগরতীর। ফুল দিয়ে তৈরি ট্রেন, বক, ময়ূরসহ বিভিন্ন নান্দনিক স্থাপনা দিচ্ছে বাড়তি আকর্ষণ। আর এই ফুলের রাজ্যে হারাতে চাইলে যেতে হবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুরে ডিসি পার্কে।

আগামীকাল শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) চতুর্থবারের মতো আয়োজিত দেশের বৃহত্তম এ ফুল উৎসবের পর্দা উঠছে। মাসব্যাপী উৎসব শেষে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এর পর্দা নামবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আশা প্রকাশ করছেন, দর্শনার্থী সমাগমের ক্ষেত্রে এবারের ফুল উৎসব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

উৎসব শুরুর আগেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা।

রঙধনুর সাত রঙে সাজানো ডিসি পার্কে গিয়ে দেখা গেছে, সাগরকে একপাশে রেখে ডিসি পার্কের মাঝখানে জোড়া পুকুর আর এর পূর্ব-পশ্চিম পাড় ঘিরে আছে বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন ফুল। মূল ফটকের ভেতর ঢুকলে বাম পাশে শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকছে আলাদা আয়োজন। এরপর জোড়া পুকুরের উভয়পাশে জায়ান্ট ফ্লাওয়ার, ট্রি হাউস, ট্রিপল হার্ট শেলফ, ট্রেন, বক, ময়ূরসহ নান্দনিক বিভিন্ন স্থাপনায় সাজানো-গোছানো ফুলের বাগান।

পার্কের উত্তর ও দক্ষিণ তীরে আরও বিভিন্ন বিনোদন উপকরণ বসানো হয়েছে। পুকুরে কায়াকিংয়ের জন্য রাখা হয়েছে নৌকা। দক্ষিণ পাশের পুকুরের ওপর দিয়ে নেওয়া হয়েছে জিপলাইন। মূল ফুল উৎসব এলাকা থেকে জিপলাইনে করে দর্শনার্থীরা পুকুরের পূর্ব পাশের ফুলের বাগানে যেতে পারবেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

পুকুরের উত্তর পাশের পূর্ব পাড়ে বসানো হয়েছে খাবারের স্টল ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন। মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও থাকছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাসব্যাপী আয়োজনে বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেইম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ, মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যালও থাকবে। এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণার একটি বিশেষ স্টল থাকবে।

পার্কে প্রবেশে জনপ্রতি ৫০ টাকা টিকিট নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ডিসি পার্কে সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক উৎসবের উদ্বোধন করবেন। এ সময় আরও উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন।

উৎসব শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা গেলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। চট্টগ্রাম নগরী থেকে অনেকে গেছেন সেখানে, ঘুরছেন, মোবাইলে সেলফি তুলে স্মৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা দেখা গেছে তাদের মধ্যে।

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দ মুহম্মদ আয়াজ মাবুদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে ফুলের যে সম্পর্ক সেটা জন্ম-জন্মান্তরের সম্পর্ক। মানুষের সকল অর্জনে, আনন্দে ফুল অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত থাকে। মানুষের বিয়োগেও ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। আমরা ফুলের রাজ্যে প্রবেশ করলে আমাদের মন ভালো হয়। এখানে যে লাখ লাখ ফুলের সমাহার ঘটেছে, আশা করি চট্টগ্রামবাসী এখানে এলে তাদের সবার মন ভালো হয়ে যাবে।’

সারাবাংলা/আরডি/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর