ঢাকা: চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও পেকুয়া উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ঘর নির্মাণের উপকরণ, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৭ জুলাই) ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান হযরত শাহ সুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর আর্থিক সহায়তা ও নির্দেশনায় দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
খানখানাবাদ মাদরাসা থেকে শুরু হওয়া এই সহায়তা কার্যক্রমে পার্শ্ববর্তী দুটি ইউনিয়ন, ষাট গড়তলা, মিনজিরি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য ঢেউটিন, নির্মাণসামগ্রী, নগদ অর্থ এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের মহাসচিব, চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বিএসপি কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী মহসিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। মানবসেবাই সর্বোত্তম ইবাদত।’
তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সকলের প্রতি বন্যাদুর্গত মানুষের পুনর্বাসনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের পরিচালনা পরিষদের সদস্য কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর আহ্বায়ক খলিফা আহমদ উল্লাহ কুদ্দুস, বিএসপি চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, শাহজাদা মিজানুর রহমান সানজরী, পাবেল মাহমুদ, নূর মোহাম্মদ, ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী, হাফেজ মো. কেরামত আলীসহ ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়রা ট্রাস্টের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।