Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সেন্টমার্টিনে সারি সারি কেয়াগাছ কেটে উজাড়

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:০৫

কেটে ফেলা কেয়াগাছ।

কক্সবাজার: দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের নয় নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া সমুদ্রসৈকতে সারি ধরে কেয়াগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণপাড়া সৈকতে গিয়ে লোকজন কেটে ফেলা কেয়াগাছ দেখতে পায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সৈকতের একটি বড় অংশ জুড়ে সারি সারি কেয়াগাছ কাটা হয়েছে। শিকড় উপড়েও পড়ে থাকতে দেখা গেছে অনেক গাছ।

দক্ষিণপাড়ার জেলে আবদুস সালাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে এই কেয়াবনের ভেতর দিয়ে সাগরে গেছি। ঝড়ের সময় এই গাছগুলো ঢেউয়ের ধাক্কা অনেকটাই সামলে দিত। এখন যদি এগুলো না থাকে, বড় জলোচ্ছ্বাসে কী হবে ভাবতেই ভয় লাগে!’

দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘ঘন কেয়াবন ছিল জায়গাটায়। এখন শুধু কাটা গুঁড়ি। মনে হয়েছে কেউ দ্বীপের বুক থেকে সবুজ একটা অংশ তুলে নিয়ে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

রহিমা আক্তার নামের এক নারী বাসিন্দা বলেন, ‘পর্যটকেরা ছবি তুলতে কেয়াবনে আসে, বাচ্চারা খেলাধুলা করে। এখন জায়গাটা ফাঁকা আর নির্জন লাগছে।’

পরিবেশবাদী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে কেয়াগাছ প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। এটি বালুচর স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় ঢেউয়ের আঘাত কমায়। পাশাপাশি কেয়াবন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাসস্থল।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজার জেলার সভাপতি এইচ. এম. এরশাদ বলেন, ‘সেন্টমার্টিন পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। এখানে কেয়াগাছ নিধন মানে পুরো দ্বীপের বাস্তুতন্ত্রকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।’

স্থানীয় তরুণ পরিবেশকর্মী মাহমুদুল হক বলেন, ‘নিয়মিত টহল, সিসিটিভি বা স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে পাহারা চালু করা গেলে এমন ঘটনা রোধ করা সম্ভব।’

সাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘যদি গাছ কেটে রিসোর্ট বা অন্য কিছু তৈরি করা হয়, তাহলে এই দ্বীপ আর আগের মতো থাকবে না। উন্নয়ন দরকার, কিন্তু প্রকৃতি ধ্বংস করে নয়।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দীর্ঘদিন ধরেই সেন্টমার্টিন দ্বীপ অতিরিক্ত পর্যটন, অবৈধ স্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা এবং প্রাকৃতিক বনভূমি সংকোচনের মতো নানা পরিবেশগত চাপে রয়েছে। এরইমধ্যে কেয়াবন উজাড়ের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

দ্বীপবাসীর দাবি, তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে ওই স্থানে পুনরায় কেয়াগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

সারাবাংলা/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর