ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মীকে গুলি করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া রুবেলসহ তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—হামিদ খান ওরফে মাখন, ল্যাংড়া রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বি । এ সময় তাদের কাছ থেকে গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দু’টি ম্যাগাজিন, ১ হাজার পিস ইয়াবা ও মাদকব্যবসায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর নামের এক ব্যক্তির পেটে ও মাথায় গুলি লাগে। একই ঘটনায় পথচারী জোছনা নামের এক নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলমগীরের স্ত্রী পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত টয়োটা প্রিমিও গাড়িটি শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হামিদের নামে গাড়িটি নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া রুবেল। তিনি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্য ও গোলাগুলির ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ল্যাংড়া রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বিকে কালশী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ল্যাংড়া রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের টয়োটা ভক্সি গাড়ি এবং গাড়িটির ভেতর থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত পারভেজ ও রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় ডিবি অভিযান পরিচালনা করে ল্যাংড়া রুবেল ও বাপ্পাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দু’টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের লেনদেনকে কেন্দ্র করে ল্যাংড়া রুবেলসহ তার সহযোগীরা গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটিয়েছে। গ্রেফতারকৃত ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দু’টি মামলা রুজুর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’