ঢাকা: ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন ও বিক্রির অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন তানভির আলম ওরফে রাহাত (২৩) ও মো. নূরনবী ইসলাম ওরফে মানিক (২৩)। চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন, একটি সিম কার্ড ও সাতটি ভুয়া ভেষজ ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে।
নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘শেরে বাংলা নগর থানায় করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া দু’জন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ফেসবুকে ভুয়া আইডি ও পেজ খুলে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম ও পরিচয় ব্যবহার করতেন।’
পুলিশ জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় ওই চিকিৎসকের ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করা হতো। এসব ভিডিওতে প্রস্টেটের সমস্যা, শারীরিক ও যৌন দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা বলে ‘Prostulin F’ নামের একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো।
নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করায় অনেক মানুষ এসব বিজ্ঞাপন বিশ্বাস করে পণ্যটি কিনে প্রতারিত হচ্ছিলেন। একই সঙ্গে অননুমোদিত বা ভেজাল পণ্য ব্যবহারের কারণে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়তে হচ্ছিল।’
এদিকে, অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে তার ব্যক্তিগত সহকারী শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানভির ও নূরনবীকে গ্রেফতার করা হয়।
নিয়াজ মেহেদী জানান, জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস প্রাথমিকভাবে যাচাই করে ভুয়া ফেসবুক পেজসহ প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গ্রেফতার দু’জনের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী জানান, অনলাইনে কোনো ওষুধ বা স্বাস্থ্যপণ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে ওষুধ না কেনারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে বা কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।