ঢাকা: রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবসা দখলে নিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘আশিক বাহিনী’ মো. নওশাদ নামে এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলন বলা হয়, আমি গত কয়েক বছর যাবত ইন্টারনেট ব্যবসা করে আসতেছি। আমার ইন্টারনেট ব্যবসার নাম ‘মপটা ফোর।’ এ ব্যবসা করেই আমি আমার পরিবারের সদস্যরা জীবিকা নির্বাহ করি। গত ১ বছর যাবত আমার ইন্টারনেট ব্যবসা দখলে নিতে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। কখনো সরাসরি এসে, আবার কখনো মোবাইল ফোনে হুমকি দিচ্ছে। গত কয়েকদিন আগে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘আশিক বাহিনীর প্রধান আশিক’ আমাকে ফোন করে বলে, আমার ব্যবসা বন্ধ করে তাদের হাতে তুলে দিতে। আর আমাকে ব্যবসা চালাতে হলে তাকে তাদেরকে এখন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে এবং প্রতি মাসে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে। এভাবে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী বলেন, আমার ব্যবসা দখলে নিতে তারা আমাকে ডিবি পুলিশ দিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে। সেখানে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আছে বলে সন্ত্রাসী বাহিনী ডিবি পুলিশকে ভুল বুঝিয়েছে। পরে আমাকে নেওয়ার পর আমি তাদেরকে সব খুলে বলি এবং তারা যখন তদন্ত করে দেখেছে আমার এমন কোন কিছু নেই। তখন ডিবি পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয়। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সেনাবাহিনীকে এ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা ভুল বুঝায়। আমার কাছে অস্ত্র আছে, আমি চাঁদাবাজি করেছি। এমন তথ্য পেয়ে সেনাবাহিনী আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। এরপর সেনাবাহিনী তদন্ত করে কোনো কিছু না পেয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। তারা সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো আমার ইন্টারনেট ব্যবসা দখলে নিতে কয়েকদিন আগে মিরপুরের শীর্ষ মাদক ব্যসায়ীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিডিও বানিয়ে ছাড়ছে। এছাড়াও, বিভিন্ন লোক দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়াচ্ছে।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, এমন ঘটনায় আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করছি। তারা যেন আমার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করে।