Friday 28 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৫:১৮ | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৬:০১

কেন্দুয়া থানা, নেত্রকোনা।

নেত্রকোনা: নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে ভিডিও ধারণ করে প্রতারণা করার অভিযোগে সাবেক বিএনপি নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার পর প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাবেক সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে বকুল মিয়াসহ (৫৫) আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ, ধর্ষিতার পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে ধ্যর্ষিতা স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে বকুল মিয়া, তার স্ত্রী মোছা. জাহানারা বেগম (৪৮), মেয়ে মোছা. লিমা (২১), আবু মিয়া (৫০) ও মোছা. স্মৃতিসহ পাঁচজনের নামে মামলা করেন। এতে আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার পর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আবু মিয়াকে (৫০) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষিতা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে লম্পট বকুল মিয়া তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে প্রতারণা করে ধর্ষণ করেন। ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তখন ভুক্তভোগী ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এজাহারে আরও প্রকাশ আছে, ভুক্তভোগীকে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ওই ছাত্রীকে বারবার ধর্ষণ করার অমানবিক ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের কাছে প্রকাশ না করার জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হতো বলেও পরিবারের লোকজন দাবি করছেন।

মামলার অভিযোগে আরও প্রকাশ হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার এক সহযোগী নারী ওই ছাত্রীকে নাটকীয়ভাবে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে তাকে ধর্ষণ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ধর্ষণ করানো হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন জানান, গত ১ আগস্ট ছাত্রীটি চট্টগ্রামে তার বড়ো ভাইয়ের কাছে গেলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান। পরে ভুক্তভোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনা কীভাবে ঘটে সবকিছু জানায়। এর আগে, সে হুমকি ও লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি।

পরে ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ওই ছাত্রীকে পরীক্ষা করালে সে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে রিপোর্ট আসে। তারপর ২৫ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সবকিছু জানতে পেরে ২৬ আগস্ট থানায় মামলা করে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে, তাকে ভয় ও হুমকি দিয়ে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো এবং অন্যদের দিয়েও ধর্ষণ করানো হতো। সে ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ‘এ এক মর্মান্তিক ঘটনা। অভিযুক্ত আবু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর