ঢাকা: দেশজুড়ে রশিদ মিনিকেট চাউল বিক্রি করছে ‘রশিদ গ্রুপ’। কিন্তু এই কোম্পানির বস্তা নকল করে মিনিকেটের আড়ালে অন্য চাল ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের জরিমানা করা হলেও প্রতারণা কর্মকাণ্ড এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, প্রতারক চক্রটি ‘রশিদ গ্রুপ’ -এর রশিদ মিনিকেট চাউল নামের হুবহু বস্তা সংগ্রহ করে। এরপর সেই বস্তায় অন্য চাউল ভরে মিনিকেট বলে বিক্রি করে। আর এতে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। পরে গত ২০ আগস্ট মিরপুর ৬ নম্বরে অভিযান চালিয়ে রশিদ মিনিকেট চালের বস্তায় অন্য চাউল ভরে বিক্রি করতে দেখা যায়। এসময় সেখানে একটি গোডাউনে রশিদ মিনিকেট চালের নামে ভুয়া চাল জব্দ করা হয় এবং অভিযুক্তদের জরিমানা করা হয়। তবে তাদের গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে আরও বিভিন্ন কোপানির মোড়ক সম্বলিত অসংখ্য বস্তা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে রশিদ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর কর্মকর্তা ওয়ারেচ আলী বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে মিরপুর ৬নং কাঁচা বাজারে আমি এবং আমাদের মার্কেটিং অফিসার বাজার তল্লাশি করি। এসময় দেখতে পাই- সোহেল, আবির, হাসান নামে ব্যক্তিরা আমাদের রশিদ মিনিকেট চালের বস্তায় অন্য চাল ভরে বেচাকেনা করছে। পরে তারা স্বীকারও করেছে। তারা আমাদের ব্যবসার জন্য হুমকি স্বরূপ।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের মধ্যে আবির ও হাসান বলেন, ‘আমরা তো চাল কিনেছি। আমরা এই কাজ করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। সোহেল ও নাজমুল তারা এই কাজ করতো। আমাদের কোনো সিন্ডিকেট নেই। ওরা চাল প্যাকেজিং করার পর আমরা ওদের গোডাউন থেকে নিয়ে এসে বিক্রি করতাম।’
গ্রাহকদের প্রতারিত করার ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় রশিদ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ -এর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই নূর ইসলাম বলেন, ‘গ্রাহকদের এভাবে প্রতারিত করা এবং নকল পণ্য বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’