Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঢাবির এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, ‘গেস্টরুমে’ নেওয়ার হুমকি

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
২০ জুলাই ২০২৬ ২১:৪৫ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ২২:৩০

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আহমেদ শাহরিয়ার নীড়। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে ওয়াশরুমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ২০২০-২১ সেশনের এক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এ সময় শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে গেস্টরুমে নিতে চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ শাহরিয়ার নীড়। এ ঘটনায় তারা দু’জনই হল প্রভোস্ট বরাবর অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করেন বলে বলে জানা গেছে। ডাকসু নির্বাচনের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের নিয়ে জয় উদযাপনের স্লোগান দিয়েছেন । এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করেও স্লোগান দেন। শিবিরের নেতাদের সঙ্গে গণমাধ্যমে কথাও বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে নেতারা এখন বলছেন, আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ ছাত্রশিবিরের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তবে তিনি নির্বাচনে শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে কাজ করেছেন। সাদিক কায়েমের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। ছাত্রশিবিরের স্কিল ডেভেলপমেন্টবিষয়ক সম্পাদক আশিক বিল্লাহ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন মারুফও ফেসবুকে একই তথ্য লিখেছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহমেদ শাহরিয়ার নীড় জানান, রোববার রাত ১২টা নাগাদ তিনি ওয়াশরুমে যেতে চাইলে মাহফুজ তাকে থামিয়ে পাশের ওয়াশরুমে যেতে বলেন। এ সময় তিনি পাশের ওয়াশরুম বন্ধ পেয়ে পুনরায় ওয়াশরুমে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেন মাহফুজ। এক পর্যায়ের মাহফুজ তাকে ধাক্কা মারেন। এ ছাড়া তাকে মারধর করেন এবং হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে ফেলেন বলেও জানান নীড়। তার হাতের আঘাতের একটি ছবি তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নীড় জানান, মাহফুজ তাকে গালাগাল করেন। তাকে বলেন, ‘তুই আজকে সারারাত মুতবি না। এখানে দাঁড়িয়ে থাকবি। মূত্রথলি ফেটে গেলেও না। আমি তোর সিনিয়র। সেশনে তোর বড়। আমি তোর বাপ। তোর ম্যানারে সমস্যা আছে। আমার রুমে আসবি। আমি তোর গেস্টরুম নেব।’

এসব বিষয়ে জানতে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে তিনি নিজ হলের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট করেছেন। যেখানে নিজের আচরণের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি হলগেট দিয়ে প্রবেশের সময় ৭-৮ জন মেয়ে গেটম্যানকে ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য হলে প্রবেশ করে। আমি ফ্লোর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেখি আরেকজন সেখানে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আমি তাকে অনুরোধ করি যে, এখানে গেস্টরা আছে, খেলা দেখতে এসেছে। উনারা বের হলে যাবেন। কিন্তু ছেলেটি বলে সে এখানেই যাবে। এটা গেস্টদের সময় না।’

মাহফুজ লিখেন, “ছেলেটা এক পর্যায়ে আমাকেও ধমক মারে। আমি তাকে বোঝানোর জন্য বলি ‘একটু পরিস্থিতি বুঝুন। এত মানুষ বাহিরে। তারা শেষ করেই চলে যাবে। এটা বলার সাথে সাথে ছেলেটা আমাকে বলে গায়ে হাত না দিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে কথা বল। আমি তখন তাকে সেশন জিজ্ঞেস করি, তাকে ধমক দেই এবং গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলি আমি তোমার বড়ো। তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলছ কেন? তখন ও আমাকে মারার হুমকি দেয়। ও আমাকে মাতে উদ্ধত হলে স্টাফরা আমাকে চলে যেতে বলে। আমি চলে আসি।”

এদিকে নীড় দাবি করেছেন, ‘ওয়াশরুমে নারীরা ছিল এটি তাকে বলা হয়নি। আমারও তো মা-বোন আছে।’

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলী রেজা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি করেছি। তারা ৩-৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

সারাবাংলা/কেকে/পিটিএম