Saturday 05 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইবিতে শিবির নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড়, দেশীয় অস্ত্রের মহড়া

ইবি করেসপন্ডেন্ট
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৫৯ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:০২

বহিরাগত বিএনপি ও যুবদল নেতাদের দেশীয় অস্ত্র হাতে শোডাউন। ছবি: সংগৃহীত

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রদল নেতার হাতে ক্রাচে ভর দিয়ে চলা এক শিবির নেতাকে চড়থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বিক্ষোভ, প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর, বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে তালা এবং বহিরাগত বিএনপি ও যুবদল নেতাদের দেশীয় অস্ত্র হাতে শোডাউনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে ভয়াবহ আতঙ্ক ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আলীনুর রহমান। তিনি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের কাজী জুহায়ের। তিনি শহিদ জিয়াউর রহমান হল ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, এদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলে খাবার খেতে আসেন কাজী জুহায়ের। তিনি হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছলে অভিযুক্ত আলীনুর হঠাৎ এসে জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় শুরু করে। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও আলীনূর তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। পরে সে হলের ২১৭ নং কক্ষে চলে যায়। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে।

এর পরপরই শিবির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনূরের কক্ষ ভাঙতে যায়। এসময় তারা রুমের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের সরিয়ে নেয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি উভয়পক্ষের নেতাদের নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন।

এসময় ভুক্তভোগী জুহায়ের সেখানে উপস্থিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অলীনূরকে রুম থেকে আনতে গেলে শিবির কর্মীদের উত্তেজনায় তাকে বের করতে না পারলে ছাত্রদলের নেতারা সভা ত্যাগ করেন। বের হতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে অলীনূরকে পুলিশি সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে নিতে গেলে শিবির কর্মীরা তার উপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারে এবং গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলে।

এ ঘটনার পরপরই বিকেল ৪টার গাড়ি আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। সেখানে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে বহিরাগতদের মহড়া দিতে দেখা যায়। একইসঙ্গে লাঠিসোটা হাতে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয় শিবির। সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটক খুলে দেয়। সর্বশেষ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র হাতে শোডাউন দিতে দেখা গেছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন হল পকেট গেট ও আজিজ হল পকেট গেটে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় জামায়াত ও শিবির কর্মীরা।

ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, ‘আমি আজ পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে যাচ্ছিলাম। আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছি। এসময় আলীনূর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় শুরু করে। পূর্বে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিল না। কেন তিনি এই কাজ করেছে তা আমি জানি না। আমি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে— তুই বেয়াদব তাই মারছি। যা পারিস করিস। আমার ইচ্ছা হইছে তাই মারছি।’

অভিযুক্ত আলীনূর বলেন, ‘আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেয়। এসময় আমি তাকে থাপ্পড় দেই। তবে তার সঙ্গে আমার পূর্বে কোনো সমস্যা ছিল না।’

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানে প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে।’

ইবি ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমাদের হল সেক্রেটারির ওপর ছাত্রদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করেছে। শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রদলের বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়েও ক্যাম্পাসে মহড়া দিয়েছে। এমন ন্যাক্কারজনক হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এই ঘটনা শুনতে পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনাটি সমাধান করার চেষ্টা করছি।’

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর