Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঢাকায় ১২ দেশের অংশগ্রহণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও টেকসই প্যাকেজিং প্রযুক্তির প্রদর্শনী

সারাবাংলা ডেস্ক
৭ মে ২০২৬ ১৯:২৮

ঢাকা: রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে তিনদিনব্যাপী ১৫তম আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইআইডি) এক্সপো ও ডায়ালগ ২০২৬ শুরু হয়েছে। এক্সপোনেট এক্সিবিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে এবং এটি ৯ মে পর্যন্ত চলবে।

একই দিনে ১ম আন্তর্জাতিক ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬ শুরু হয়, আয়োজক এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড, শিল্প অংশীদার বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডা স্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ জটিল বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে জ্বালানি খাতে অগ্রসর হচ্ছে। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, রপ্তানি এবং নগরায়নের চাহিদা পূরণের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। আমাদের জ্বালানি কৌশল নিরাপদ, সাশ্রয়ী, টেকসই এবং সহনশীল হতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ জ্বালানি, আধুনিক গ্রিড এবং জ্বালানি দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা এখন কেবল পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। মন্ত্রী রুফটপ সোলারসহ সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘প্যাকেজিং এখন শুধুমাত্র মোড়ক নয়; এটি পণ্যের গুণমান, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এই খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধবভাবে উন্নয়ন করা জরুরি। এই এক্সপো বাংলাদেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।’

শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন ও পরিবেশ আলাদা করে দেখা যায় না। পরিবেশ সুরক্ষা কেবল দায়িত্ব নয়, এটি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অপরিহার্য শর্ত। আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে দ্রুত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায় এবং একই সঙ্গে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিআইআইডি এক্সপো ও ডায়ালগ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করছে যেখানে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, সবুজ শিল্প এবং আধুনিক প্রযুক্তি একত্রিত করা যায়। এখানে বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং উদ্যোক্তারা একসাথে কাজ করতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য—পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।’

উদ্বোধনীতে রাশেদুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক্সপোনেট এক্সিবিশন বলেন, ‘১২ দেশের প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বাণিজ্যিক গুরুত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছি যেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো, নির্মাণ প্রযুক্তি এবং শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রযুক্তি, পণ্য ও সমাধান এক ছাতার নিচে প্রদর্শন করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান কেবল পণ্য প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যবসায়িক সংযোগ, জ্ঞান বিনিময়, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি কার্যকর ক্ষেত্র।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।’

বিশেষ অতিথি মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ‘প্যাকেজিং শিল্পকে শক্তিশালী করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’ ভাইস-চেয়ারম্যান ও সিইও মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘প্যাকেজিং শিল্প রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত।’

সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান ড. মুজাফফর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এখন সময়ের দাবি।

ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম. আজিজুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি খাতে তথ্যভিত্তিক সংলাপ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

অন্যান্য বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মুনিফ আম্মার, সিইও, দৈনিক সময়ের আলো, নাজনিন মুন্নি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সোলারিক গ্লোবাল এবং আসাদুল্লাহ আহমেদ, পরিচালক, এসকিউবি টেকনোলজিস লিমিটেড। খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ দেশের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে।’

উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন পণ্য, প্রযুক্তি এবং সেবা উপস্থাপন করা হচ্ছে। একই ভেন্যুতে, বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সহযোগিতায় ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও, ছয়টি বিশেষ অধিবেশন আয়োজিত হয়েছে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এর উদ্যোগে।

দেশে বর্তমানে প্লাস্টিক খাতে ৬ হাজারের বেশি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি রফতানিমুখী, এবং প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিংয়ের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই এক্সপো দেশের প্যাকেজিং শিল্পকে আরও সংগঠিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরে সহায়ক হবে।

নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তি কেবল পরিবেশ রক্ষা করে না, এটি শিল্পকে আরও দক্ষ ও টেকসই করে। সবুজ কারখানা মডেল এবং কার্বন হ্রাস প্রযুক্তি শিল্পায়নে নতুন দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে ২৮৪টি সবুজ কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ১২১টি ‘প্লাটিনাম’ এবং ১৪৪টি ‘গোল্ড’ মানের। বিশ্বে শীর্ষ ১০০ সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত সবুজ কারখানার মধ্যে ৫২টি বাংলাদেশে অবস্থিত।

সরকার সবুজ প্রযুক্তি-ভিত্তিক পরিবহন, ইলেকট্রিক ভেহিকল এবং লিথিয়াম-গ্রাফিন ব্যাটারি শিল্পে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। ই-বাইক ও লিথিয়াম-গ্রাফিন ব্যাটারির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হার কিছু ক্ষেত্রে ৬০–৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর