Friday 17 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বড় খেলাপিদের ‘ঋণ প্রোফাইল’ প্রকাশে গড়িমসি, ক্ষুব্ধ আইএমএফ

আদিল খান স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুলাই ২০২৬ ২২:১৬ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪৫

বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।

ঢাকা: দেশের ব্যাংক খাতের বড় খেলাপি ঋণ কম দেখাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া পুনঃতফসিল নীতি এবং বড় ঋণখেলাপিদের তথ্য প্রকাশে অনীহা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির অভিযোগ, নামমাত্র ডাউন পেমেন্টের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিল করে ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিটে খেলাপি ঋণের হার কম দেখানো হলেও বাস্তবে বছরের পর বছর সেই ঋণ অনাদায়ী থেকে যাচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বড় ঋণখেলাপিদের ঋণ প্রোফাইল প্রস্তুত করলেও তা জনসম্মুখে প্রকাশ করছে না। এমনকি আইএমএফ বারবার এ সংক্রান্ত তথ্য চাইলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা দিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ই জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএমএফের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বৈঠকে চলমান কর্মসূচি, আগের মিশনের সুপারিশের অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তোলেন, বড় ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সুবিধা দিচ্ছে কি না। তারা অভিযোগ করেন, আগের সফরে ব্যাংকভিত্তিক শীর্ষ ঋণখেলাপিদের ঋণ প্রোফাইল চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এ ধরনের তথ্য সংরক্ষিত নেই—এমন ব্যাখ্যায়ও সন্তুষ্ট হয়নি আইএমএফ।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, আইএমএফের কাছে বারবার খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৪৬ শতাংশ, আর কয়েকটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৯০ শতাংশও ছাড়িয়েছে।

আইএমএফের ধারণা, অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হয়নি। তাই বড় ঋণখেলাপিদের ঋণ প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে প্রকৃত চিত্র জানতে চায় সংস্থাটি।

বৈঠকে আরও বলা হয়, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে কিছু ব্যাংক খেলাপি ঋণ কম দেখানোর চেষ্টা করছে। এতে প্রকৃত ঋণ আদায় ব্যাহত হচ্ছে, ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সেই ঘাটতি পূরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিতে হচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আইএমএফ।

সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলে আইএমএফ। তাদের মতে, অতীতের মতো এখনও বিশেষ পদ্ধতিতে বাজারে হস্তক্ষেপের সুযোগে অর্থপাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকারের চলমান উদ্যোগের কথাও আলোচনায় উঠে আসে। এ ধরনের নীতি থেকে সরে এসে আরও স্বচ্ছ ও বাজারভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংস্থাটি।

এছাড়া ব্যাংক একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইএমএফ প্রতিনিধিরা। লোকসানগ্রস্ত ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে জনগণের করের অর্থ ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করা হবে কি না—সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চান তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৪৭০ কোটি ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি নিয়ে দেশে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছে প্রতিনিধি দল। একই সঙ্গে বকেয়া কিস্তি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে সংস্থাটি।

 বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এটি ছিল আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একটি সৌজন্য বৈঠক। বৈঠকে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদানের ধরন এবং পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার বিষয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

আদিল খান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর