ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকটির সচেতন গ্রাহকরা। একই সঙ্গে ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকের যে বৈধ মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছিল, তা প্রকৃত ও আদি পরিচালকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও সুপারিশ করেছেন তারা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক ও সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহকরা বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক এবং দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের বড় একটি অংশ এই ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ব্যাংকটির প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
গ্রাহকদের উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে- ব্যাংক লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ব্যাংককে ঘিরে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
তারা আরও দাবি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, যা ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে নিয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনেরও দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপসহ অভিযুক্তদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের ক্ষতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রয়োজনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সুযোগ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
তাদের দাবি, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল করে ব্যাংক লুটপাটে জড়িতদের পুনর্বাসনের সব সুযোগ বন্ধ করতে হবে এবং তাদের আজীবনের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বক্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং গ্রাহকদের পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এজন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্বাধীন ও দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকের সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।