Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট 
৯ আগস্ট ২০২৬ ২৩:০৭ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৭

ঢাকা: আর্থিক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ রক্ষায় ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর (নন-ভায়েবল) ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেজল্যুশনের আওতায় এনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অকার্যকর ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আর্থিক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পর এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থার গুরুতর দুর্বলতা উঠে আসে। এর ভিত্তিতেই ৪ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করে রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকৃত ঋণ ও বিনিয়োগের পরিমাণও বেশি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদের মান নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং আয়ক্ষমতার অবনতিও তাদের আর্থিক দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের দায় পরিশোধে প্রতিষ্ঠানগুলোর অক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে নিজেদের আর্থিক দায় পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, দায়, ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেজল্যুশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশাসক (অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) এবং সহযোগী প্রশাসক (অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা এবং রেজল্যুশন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রশাসক ও সহযোগী প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। রেজল্যুশনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা, পাওনাদারদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ার পরও দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলে আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। সময়মতো রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় নেওয়া গেলে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষ করে বড় মূলধন ঘাটতি, উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্যসংকট এবং আয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন আইনের আওতায় রেজল্যুশন কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, ৪ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নেওয়া এ পদক্ষেপ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারেও কার্যকর অগ্রগতি হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর