Thursday 13 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৪০ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৫৪

অগ্রণী ব্যাংক, চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানাজানি হয় বৃহস্পতিবারে (১৩ আগস্ট)। গ্রাহকের আমানতের বিপুল পরিমাণ টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরে তোলপাড় চলছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের এ বিপুল অর্থ ভল্ট থেকে সরিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং বহিরাগত মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পরে আদালতের মাধ্যমে একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কোতোয়ালী থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৯ আগস্ট নগদ অর্থ ও ভোল্টের হিসাব মেলাতে গিয়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বড়ো নোটের বান্ডিলে ছোটো নোট ঢুকিয়ে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম রাখা হতো। পরে ওই অর্থ হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকার ‘ইশরাত এগ্রো’ গরুর খামারে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে থাকা টাকার হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরে ভল্টের হিসাব, ব্যাংকের বিভিন্ন রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় কামরুল হোসেন ভল্ট থেকে ওই অর্থ সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দু’টি মোবাইলফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অর্থের ঘাটতির প্রকৃত কারণ, টাকা সরানোর সময়কাল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এ ছাড়া, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা লালদিঘী শাখায় অডিট টিম পাঠিয়েছি। অডিটে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

 

সারাবাংলা/এসএন/এআর