ঢাকা: আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. জামালুন্নেসা বলেছেন, ‘মানুষ বা প্রতিষ্ঠান কেউ ফেরেশতা নয়। ভুলভ্রান্তি মানুষের যেকোনো সময় হতে পারে। তবে ইচ্ছা করে ভুল করলে সেটা বড় অপরাধ।’
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. জামালুন্নেসা বলেন, ‘আমাদের লাইসেন্স ফেরত দেওয়ার জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা এটার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের হয়তো আরও সচেতন হতে হবে। আদ-দ্বীন একটা পরিবার, যেখানে আমরা আমাদের সিস্টার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ডাক্তার সবাইকে খুব ভ্যালু করি; আমাদের রোগী তো অবশ্যই।’
আদ-দ্বীনের সেবামূল্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যে যতটুকু সম্ভব সেবা মূল্য কম নেওয়ার। আপনারা হয়তো জানেন যে আমাদের একটা যাকাত ফান্ডও আছে, আমরা সেটা এই চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করি।’
তিনি বলেন, ‘এই যে ডায়ালাইসিসের কথা সারাদেশ জেনেছে যে আমরা ২৫০ টাকায় ডায়ালাইসিস করছি, এটা সম্ভব হচ্ছে যাকাত ফান্ডের কারণে। কারণ যেটুকু আপনার খরচ হয়, যেটুকু কেমিক্যাল, ওষুধ, রিএজেন্ট, ম্যানপাওয়ারের জন্য যেটা আমাদের খরচ হয়, সেটা তো খরচই হয়। সেটার জন্য আমাদের যাকাত ফান্ডটাকে ব্যবহার করি।’
অধ্যাপক ড. জামালুন্নেসা আরও বলেন, ‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল যেহেতু নন-প্রফিট অর্গানাইজেশন, এখান থেকে আমরা প্রফিট করি না। আমাদের অন্য হাসপাতালগুলো বন্ধ ছিল না, সেগুলো কাজ করেছে। আর মগবাজারে আজকে থেকে কাজ শুরু হলো।’
তিনি জানান, ৪৭ দিন হাসপাতালের বিভিন্ন সংস্কারকাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ৪৭ দিন আমরা রেনোভেট করেছি, এটা একটা বড় জিনিস। ৪৭ দিন আমাদের ওয়ার্ড, কেবিন, ইন্টারনাল যে লজিস্টিক সাপোর্ট, এগুলোকে আমরা রেনোভেট করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভেন্টিলেশনের যে একটু সমস্যা ছিল, সেগুলোকে আমরা আরও উন্নত করেছি। আমরা নিশ্চিত করেছি যে, আমাদের এখানে কোনোরকম কোনো ইনফ্রাস্ট্রাকচারে যেন সমস্যা না থাকে। এটা আমরা উত্তরোত্তর আরও চেষ্টা করব।’
কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো করার তো কোনো শেষ নেই, তাই না? সেটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা এই ৪৭ দিন আমাদের কর্মীদেরকে বিভিন্ন লেভেলে আমরা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি, যাতে করে তারা তাদের যে ঘাটতিগুলো আছে, সেগুলো যেন কাটিয়ে উঠতে পারে।’