Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাকিস্তানে তালেবানের পালটা হামলায় ৫৫ সেনা নিহতের দাবি

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫০ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০১

তোরখাম সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে তালেবান নিরাপত্তা কর্মীরা পাহারা দিচ্ছে। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তান ডুরাল্ড লাইন (আফগান–পাকিস্তান সীমান্ত) বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে তালেবান। ওই হামলায় ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তালেবান সরকারের বরাতে আফগান টাইমস জানিয়েছে, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ হামলা চালানো হয়।

তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার রাত ৮টা থেকে শুরু হওয়া ওই অভিযান টানা চার ঘণ্টা চলে। অভিযানে পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি এবং ২টি ঘাঁটি দখলের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া একটি পাকিস্তানি ট্যাংক ধ্বংস ও একটি সামরিক যান কবজায় নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তালেবানের দাবি, এ লড়াইয়ে তালেবানের ৮ যোদ্ধা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে হতাহতের এ সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রণালয় এই আক্রমণকে আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলায় নারী ও শিশুদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে বলা হয়েছে, তালেবান সেনাপ্রধানের নির্দেশে প্রায় চার ঘন্টা ধরে লড়াই চলে এবং মধ্যরাতে শেষ হয়।

গত ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানি বিমান হামলার জেরে এ পালটাপালটি আক্রমণ শুরু হয়। আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, পাকিস্তানের ওই বিমান হামলায় নানগারহার প্রদেশে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

ইউএনএএমএ জানিয়েছে, পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় আরও একটি হামলায় একটি মাদ্রাসা আঘাত হানে এবং কাছের একটি মসজিদ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে উরগুন জেলায় আরেকটি হামলায় একটি খালি আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুটি ঘটনায় কোনও বেসামরিক লোক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউএনএএমএ- এর পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ আহ্বান জানিয়ে এবং বেসামরিক লোকদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নাঙ্গারহারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে, বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মধ্যরাতের কিছুক্ষণ আগে এই হামলার ঘটেছে।

বুধবার তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্স-এ বলেন যে পাকিস্তানি বাহিনী কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়ার কিছু এলাকায় অতিরিক্ত বিমান হামলা চালিয়েছে, তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সারাবাংলা/এএ