Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মার্কিন চাপ উপেক্ষা / ফের জ্বালানির জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে ভারত

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
২৭ মার্চ ২০২৬ ১৯:২০ | আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ২১:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন শুল্ক কমানোর আশায় রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা কমিয়ে দিলেও, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে ভারত। ওয়াশিংটনের চাপ উপেক্ষা করে মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়া থেকে সরাসরি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বিষয়ে দুই দেশ একটি ‘মৌখিক চুক্তিতে’ পৌঁছেছে।

গত ১৯ মার্চ দিল্লিতে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি এবং রাশিয়ার উপ-জ্বালানি মন্ত্রী পাভেল সরোকিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সমঝোতা হয়। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারত সরাসরি রুশ গ্যাস পেতে শুরু করবে। ভারত ইতিমধ্যে তাদের জ্বালানি আমদানিকারকদের এই বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেছে এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ ছাড়ের আবেদন জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলা করতেই ভারত আবার রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক মাসের মধ্যে ভারতের মোট তেল আমদানির অন্তত ৪০ শতাংশ আসবে রাশিয়া থেকে, যা গত জানুয়ারির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

ভারত সরকারের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, নীতিনির্ধারকরা জানুয়ারিতে রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অনুশোচনা করছেন। সেখানে সতর্ক করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ানোসহ রুপির মান কমিয়ে দিতে পারে।

জ্বালানি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার ৯৬ শতাংশ বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রা অর্থাৎ রুপি ও রুবলে সম্পন্ন হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা মেটানো এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই তাদের বর্তমান নীতির মূল ভিত্তি।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর