Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘বাংলাদেশ এখন জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সম্ভাবনাময় বাজার’

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১২ মে ২০২৬ ২২:৪৬ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১০:০৭

ঢাকা: জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেছেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সম্ভাবনাময় বাজারে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ কাউন্সিল (এফইসি) এবং টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীরা সেমিনারে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী স্বাগত বক্তব্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক রূপান্তরের চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে বলা হয়েছে, ১৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বিপুল কর্মক্ষম যুবশক্তি এবং ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেশটিকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি এবং শিল্পায়নে চলমান সংস্কার বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী বলেন, আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আইটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে।

এফইসির প্রেসিডেন্ট কেন মাতসুজাওয়া বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই ফোরাম দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সেমিনারে দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ সফিউল আজম পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩৩তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে। তিনি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর অব্যাহতি এবং ১০০ শতাংশ বৈদেশিক মালিকানার সুযোগসহ বিভিন্ন প্রণোদনার কথা উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় পর্বে রাষ্ট্রদূত জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাপানের শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জাপানি বিনিয়োগকারীদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে সেমিনারটি শেষ হয়।

সারাবাংলা/একে/এসএস