Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চীন সফর শেষে তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ মে ২০২৬ ১৭:৫১ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১৯:১৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৫ মে) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি চাই না কেউ স্বাধীনতার পথে যাক।’

শনিবার (১৬ মে) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বেইজিং সফর শেষে দেওয়া এই বক্তব্য নতুন করে তাইওয়ান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ান প্রশ্নে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন, আর যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে আগেই বলেছিলেন, তাদের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই, কারণ তাইওয়ান নিজেকে আগেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। তবে বেইজিং এই অবস্থানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা হিসেবে দেখে আসছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, ‘আপনি জানেন, যুদ্ধ করতে আমাদের ৯,৫০০ মাইল দূরে যেতে হবে। আমি সেটা চাই না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীন শান্ত হোক।’

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি ও শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে অনেক আলোচনা করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যুতে খুবই দৃঢ় অবস্থানে আছেন এবং স্বাধীনতার কোনো আন্দোলন দেখতে চান না।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে শি সতর্ক করে বলেছেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।’

তবে ট্রাম্প সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘না, আমি তা মনে করি না। আমার মনে হয় সব ঠিক থাকবে। শি যুদ্ধ দেখতে চান না।’

এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে চীন। এর ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভারসাম্য নীতিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তবে, বেইজিং এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানায়।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই অস্ত্র বিক্রি চূড়ান্ত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে খুব বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন যিনি তাইওয়ান পরিচালনা করছেন, তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও দুই পক্ষের অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক গভীর। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাইওয়ানের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন, কারণ এতে বেইজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

এদিকে, তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি শনিবার বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ আরও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় অনুমোদিত।

তিনি বলেন, ‘তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রি সবসময়ই আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি।’

রয়টার্সের বরাতে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির অংশ এবং এটি আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করে।’

তাইওয়ানের স্বাধীনতার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র আগেও চীনের ক্ষোভের মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর তাদের ওয়েবসাইট থেকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতার কথা উল্লেখ করা একটি বিবৃতি সরিয়ে নেয়। তখন বেইজিং অভিযোগ করেছিল, এটি বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির কাছে ভুল বার্তা পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে, তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং বলেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

তিনি দাবি করেন, তাইওয়ান সবসময়ই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে কাজ করেছে। একই সঙ্গে তিনি চীনের আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপ ও কর্তৃত্ববাদী দমননীতিকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর