ভারতে রাজস্থানের দৌসা জেলায় দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি বাস ট্রাককে ধাক্কা দিলে তাতে আগুন ধরে যায়। এতে অন্তত আটজন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বুধবার (১ জুলাই) ভোরে কোলওয়া থানা এলাকার ধনওড়ার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
ঋষিকেশ থেকে ইন্দোর যাওয়ার পথে বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে সামনে চলতে থাকা একটি ট্রেলার ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর মুহূর্তেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং নিমিষেই তা উভয় যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ে । এতে বাসের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েন এবং উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে।
দৌসার এসপি পীযূষ দীক্ষিত পিটিআইকে জানিয়েছেন যে, পাঁচজন জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
এসপি বলেন, ‘হ্যান্স ট্রাভেলসের বাসটি ঋষিকেশ থেকে ইন্দোর যাচ্ছিল, তখন এক্সপ্রেসওয়েতে এর সামনে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি গাড়িতেই আগুন লেগে যায়, এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’
আহতদের দৌসার জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও আছে। সেখানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে একজনকে ধর্মেন্দ্র নামে শনাক্ত করা হয়েছে এবং অপরজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত এসপি শঙ্কর লাল।
শঙ্কর লাল আরও জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দমকলকর্মী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন একটি উদ্ধার অভিযান চালায়।
স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনে বাস ও ট্রাক-দুটিই সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের আগে বাসচালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তবে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, বাসের লাগেজ বগিতে সিগারেটের কার্টন রাখা ছিল। যার ফলে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ দাবিও তদন্ত করে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এক গ্রামবাসীর দাবি, স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করার সময় বাসের ভেতরে সিগারেটের একাধিক কার্টন দেখতে পান।
তবে পুলিশ এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বেঁচে ফেরা কয়েকজন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জরুরি সেবাদাতা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছেন।
যাত্রীদের দাবি, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই আশপাশের গ্রামের মানুষ আগুনে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুরো বাস আগুনে পুড়ে যায় এবং ততক্ষণে কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু হয়।
কর্মকর্তারা জানান, পুড়ে যাওয়া যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার আগে প্রায় এক ঘণ্টা দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার কারণ, আগুন লাগার উৎস এবং বাসে কী ধরনের মালামাল বহন করা হচ্ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।