ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে গত ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন। আহতদের অধিকাংশই সামান্য মস্তিষ্কে আঘাত বা ‘কনকাশন’-এ আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা ‘কোনো না কোনো মাত্রায় আঘাত’ পেয়েছেন। তবে আহতদের ৯৬ শতাংশ এরইমধ্যে দায়িত্বে ফিরে গেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এ সেনারা কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। কিন্তু এ তথ্য এমন সময়ে প্রকাশ করা হলো, যখন মার্কিন সেনাদের হতাহতের তথ্য গোপনের অভিযোগ নিয়ে চলছে বিতর্ক।
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস অভিযোগ করে যে, ইরানের হামলায় মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কিছু তথ্য পেন্টাগন প্রকাশ করছে না। এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শন পার্নেল বলেন, ‘সেনাদের আহত হওয়ার সংখ্যা লুকানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তার দাবি, গণমাধ্যমের কিছু ‘পক্ষপাতদুষ্ট লেখক’ মার্কিন সামরিক বাহিনী ও নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এসব অভিযোগ তুলছেন।
তবে নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল রোডস হা পাল্টা বিবৃতিতে বলেন, তাদের প্রতিবেদনের তথ্যের বিষয়ে তারা নিঃসংকোচ। তিনি দাবি করেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে, জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল পেন্টাগন। নিহত ওই দুই সেনা হলেন হাওয়াইয়ের ইভা বিচের ২৫ বছর বয়সি ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের ১৯ বছর বয়সি প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস।
১৯ জুলাই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিহত সেনাদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে নিবৃত্ত করতেই এসব দেশপ্রেমিক সেনা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।