দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের (সেনাপ্রধান) পদ থেকে ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মিখাইলো দ্রাপাতিকে তার জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে এক টেলিভিশন ভাষণে জেলেনস্কি জানান, তিনি জনপ্রিয় ও উদ্ভাবনী ধারণাসম্পন্ন জেনারেল মাইখাইলো ড্রাপাতিকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভের শুরু। পরে তা ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। টানা ছয় দিন ধরে রাজধানী কিয়েভে বিক্ষোভ চলছে। এ বিক্ষোভ থেকে সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির অপসারণের দাবি ওঠে।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে মিখাইলো ফেদোরভ আর ওলেক্সান্দর সিরস্কির বিরোধ সাম্প্রতিক দিনগুলোয় প্রকাশিত হয়ে পড়ে। মূলত এর জেরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অপসারণ, বিক্ষোভ। শেষ পর্যন্ত টানা বিক্ষোভের মুখে সেনাপ্রধানকেও সরিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ মন্ত্রণালয়কে উজ্জীবিত করা, সশস্ত্র বাহিনীর রূপান্তর ঘটানো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। ৬০ বছর বয়সী সিরস্কিকে ইউক্রেনের অনেকেই সোভিয়েত ধাঁচের একজন কমান্ডার হিসেবে দেখেন, যিনি সেনাবাহিনীতে আমূল পরিবর্তন আনতে অনিচ্ছুক।
তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী মিখাইলো দ্রাপাতি, যিনি একজন জনপ্রিয় ও যুদ্ধ-অভিজ্ঞ জেনারেল।
ফেসবুকে দ্রাপাতি বলেন, ‘আমি দায়িত্বের সঙ্গে, পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে এবং যারা আজ আমাদের দেশকে রক্ষা করছেন তাদের প্রতি সম্মান রেখে কাজ করব।’
তিনি সিরস্কিকে ‘ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য তার ধারাবাহিক কাজের’ জন্য ধন্যবাদ জানান।
মঙ্গলবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্টে জেলেনস্কি সিরস্কিকে তার সামরিক অভিযানগুলোর জন্য ধন্যবাদ জানান। যার মধ্যে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের প্রথম দিনগুলোতে রাজধানী কিয়েভকে সফলভাবে রক্ষা করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার জন্য আমি ওলেক্সান্দর সিরস্কি এবং আমাদের প্রত্যেক যোদ্ধার প্রতি কৃতজ্ঞ। একই দৃষ্টিভঙ্গির জন্য মিখাইলো দ্রাপাতিকেও ধন্যবাদ।’