Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইরান যুদ্ধে বিলিয়ন ডলার খরচ, বাজেট নিয়ে দিশেহারা পেন্টাগন: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ জুলাই ২০২৬ ১১:৩২ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ ১৩:২২

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩ হাজার ৭৫০ কোটি (৩৭.৫ বিলিয়ন) পৌঁছেছে। যেটি মে মাসের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার (৮ বিলিয়ন ডলার) বেশি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির সামনে প্রথমদিন মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপস্থিত হয়ে হেগসেথ এ কথা বলেন।

মূলত অজনপ্রিয় এ যুদ্ধ চালিয়ে নিতে জরুরি তহবিল চাইতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।

তিনি জানান, নিজের মন্ত্রণালয়ের জন্য কংগ্রেসে ৮৭ বিলিয়ন বা আট হাজার ৭০০ কোটি ডলার চেয়েছেন, যার মধ্যে ৬৭ বিলিয়ন বা ছয় হাজার ৭০০ কোটি ডলার বরাদ্দ থাকবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের হেগসেথ জানান, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের এ হিসাবে যুদ্ধের নির্দিষ্ট কিছু খাতের খরচ ধরা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচের হিসাবও এর মধ্যে রয়েছে।

হোয়াইট হাউস এপ্রিল মাসে আগামী অর্থবছরের জন্য পেন্টাগনের জন্য কংগ্রেসের কাছে এক দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার চেয়েছে, এই অর্থ অনুমোদিত হলে আধুনিক যুগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।

তবে পেন্টাগন কীভাবে এ হিসাব করেছে, তা স্পষ্ট নয়। গত মার্চে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনেই কমপক্ষে ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার খরচ হয়েছিল।

গত মাসে কংগ্রেসের কাছে আরও প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর বেশির ভাগই ইরান যুদ্ধকেন্দ্রিক। একদিকে আইনপ্রণেতারা এ যুদ্ধ নিয়ে হতাশ, অন্যদিকে আগামী নভেম্বরেই মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ পরিস্থিতিতে এই তহবিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন করে লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে তহবিল না বাড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণ কমিয়ে দিতে হবে। এ যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারের বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ ফেলছে। ফলে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার তহবিলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের শুধু অতিরিক্ত তহবিলের অনুরোধই রক্ষা করতে বলেননি, বরং ২০২৭ সালের জন্য পেন্টাগনের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের বাজেট পাসেরও আহ্বান জানান।

হেগসেথ বলেন, ‘আমি মনে করি, এই বিভাগকে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল না দেওয়াই বর্তমানে আমাদের জাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’

শুনানিতে বরাদ্দবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সংঘাত বাড়ানো ও যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। তার কথা শুনে মনে হচ্ছে, এটি আরেকটি অনন্তকালের যুদ্ধ হতে যাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।

অন্যদিকে, জনমত জরিপগুলোয় এখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। তারা অজনপ্রিয় এ যুদ্ধের খরচের সঙ্গে জনগণের জীবনযাপন ব্যয়ের সামর্থ্যের বিষয়টি যুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুদ্ধের একটা সংকটময় মুহূর্তে হেগসেথ এই কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হন।

গত সপ্তাহান্তে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮–তে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় ৪৩০ সেনা। পেন্টাগন গত সোমবার জানিয়েছে, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে ১০০ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে ৯৬ শতাংশই আবার কাজে ফিরেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করে। চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। এর পর থেকে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর নিয়মিতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর