ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জ্বালানি তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চালানো টানা ১২তম রাতের হামলার মধ্যেই হুতিরা এ ঘটনা ঘটাল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বধবার (২২ জুলাই) হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সারি বলেছেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর জারি করা অবরোধের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের দায়ে আমরা এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছি।’
সৌদি প্রেস এজেন্সি সৌদি আরবের ট্রান্সপোর্ট জেনারেল অথরিটির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এনসেলিয়া জাহাজটিতে হামলা হয়েছে।
সূত্রটি বলেছে, জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ আছেন।
এসপিএ বলেছে, ‘এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের লঙ্ঘন, যা বাণিজ্যিক জাহাজ ও তার নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।’
তবে এসপিএ লায়লা জাহাজে হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
সারি বলেছেন, ‘বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এবং এর ফলে জাহাজগুলোতে আগুন লেগে যায়।’
সারি আরও বলেন, ‘হুতিরা, যাদের সরকারি নাম আনসার আল্লাহ, প্রায় দশটি জাহাজকে… তাদের পথ ছেড়ে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।’
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) কেন্দ্র জানিয়েছে, তারা একটি ট্যাংকারে হামলার খবর পেয়েছে।
এই অঞ্চলের জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউকেএমটিও বলেছে, ‘একটি ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, একটি অজানা বস্তুকণা জাহাজটিতে আঘাত হেনেছে, যার ফলে জাহাজে আগুন লেগেছে এবং নাবিকরা বর্তমানে তা নেভানোর চেষ্টা করছেন।’
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেন সরকার এবং তাকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। তারা ২০ জুলাই সৌদি আরবের ওপর একটি সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করেছে। এর আগে, একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতে ইয়েমেন সরকার হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালালে, গত চার বছরের মধ্যে ইয়েমেনের অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতা ঘটে।
হুতিরা বলেছে, সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা হলো‘চোখের বদলে চোখ’ নেওয়ার মতো। তারা অবরোধের জবাব অবরোধের মাধ্যমে দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।