নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে মোদী সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার (ক্ষমতাচ্যুত) সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সারা দেশের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে শনিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
আন্দোলনের অংশ নেওয়া তরুণদের প্রশংসা করে ভিডিও বার্তায় গান্ধী আরও বলেন, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা গর্বিত। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় যারা রাজপথে অনড় ছিলেন, প্রতিটি তরুণ ও শিক্ষার্থীকে তিনি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অভিনন্দন জানাই।
এসময় শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি সরকারের দমনপীড়নের কড়া সমালোচনা করেন। রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আপনারা যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন, তা আর চলতে পারে না। দেশ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো সহিংসতার জন্য অমিত শাহকে সরাসরি দায়ী করছি। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং পেলেট গান ব্যবহারের অনুমোদন তিনিই দিয়েছেন। ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানো আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। বিষয়টি সংসদে বড় ইস্যু হবে।’
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বাস্তবায়িত হলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাহুল। তিনি জানান, সরকারের কাছে এখনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাকি রয়েছে। প্রথমত, ভারতের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার্থীদের সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে হিংসাত্মক হামলা চালানো হয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, সত্যিকারের সাহস হলো সাংবিধানিক পন্থায় নিজের মর্যাদার জন্য অবিচল থাকা। ভয় না পেয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর মাধ্যমে এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার এখন সময় এসেছে।