গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের সাম্প্রতিক সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ১৩০৯ এ দাঁড়িয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনে দেশটিতে সংক্রমণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (২৫ জুলাই) গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো সরকারের করা হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ব্যক্তিরাসহ গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৯৭৩ এ দাঁড়িয়েছে।
যা আগের শনিবারের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।
আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি আফ্রিকা) প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শক আবদুলসালামি নাসিদি আল জাজিরাকে বলেন, ‘কার্যকর টিকা না থাকায় ইবোলা ভাইরাস রীতিমতো ‘দাবানলের মতো’ ছড়িয়ে পড়ছে।’
নাসিদি আরও বলেন, ‘সংঘাতকবলিত একটি এলাকায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও চাপে পড়েছে। আফ্রিকার অন্যান্য অনেক দেশের মতো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি রয়েছে।’
কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ আর এতে মৃত্যুর সংখ্যা যে গতিতে বাড়ছে, সচরাচর এমনটা দেখা যায় না। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে চলমান এ মহামারিকে এখন পর্যন্ত দ্রুততম ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কঙ্গোয় এখন ইবোলার ‘বুনদিবুগিও’ ধরন বেশি ছড়াচ্ছে। এটা বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কারণ, ইবোলার যে চারটি ধরন এখন পর্যন্ত মানবদেহে শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে বুনদিবুগিও বেশ বিরল ধরনের। এ ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনও কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
ইবোলা সংক্রমণের ঠেকাতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ জানিয়েছে, তারা খুব দ্রুত একটি টিকা তৈরি করেছে। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) এ টিকার প্রথম পরীক্ষামূলক ডোজ একজন স্বেচ্ছাসেবককে দেওয়া হয়েছে।